দুর্গম সীমান্তে চার বছর পর সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ফিরল শিক্ষার আলো

থানচি ,বান্দরবান প্রতিনিধি:
দীর্ঘ প্রায় চার বছর বন্ধ থাকার পর বান্দরবানের থানচি ও রুমা উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আবারও শুরু হয়েছে পাঠদান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিদ্যালয় দুটি পুনরায় চালু হওয়ায় শতাধিক শিশুর শিক্ষা জীবন সচল হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে বান্দরবান রিজিয়নের ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উদ্যোগে থানচি উপজেলার জারুলছড়ি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রুমা উপজেলার আরিফ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয়।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, থানচি উপজেলার সুংসাংপাড়া সেনা ক্যাম্পের অধীন থিংদলতে ত্ল্যাং টিওবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কুকি-চিন সশস্ত্র তৎপরতার কারণে ২০২০ সাল থেকে বিদ্যালয় দুটি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় শিক্ষকদের বেতন কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং বিদ্যালয় দুটিতে পাঠদান শুরু সম্ভব হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে তাদের মাঝে বই, খাতা ও পেন্সিল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে হোয়াইটবোর্ড সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে পাঠদান কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।
এছাড়া সম্প্রতি ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসির পরিদর্শনকালে স্থানীয় জনগণের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারুলছড়ি পাড়া, সাস্বত পাড়া, হাতিছড়া পাড়া, ক্রেসপাই পাড়া ও আরিফ পাড়ার বাসিন্দাদের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বিতরণকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে সাউন্ড বক্স, সোলার লাইট, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ৭ ফুট ও ৫ ফুট টিন, ২ ইঞ্চি ও ১ ইঞ্চি পাইপ এবং এক হাজার লিটার ধারণক্ষমতার তিনটি পানির ট্যাংক। সংশ্লিষ্ট পাড়ার কারবারিদের হাতে এসব সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
থিংদলতে ত্ল্যাং টিওবির অধিনায়ক বলেন, “শিক্ষা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক সহায়তার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা আরও সুদৃঢ় করতে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয় দুটি চালু হওয়ায় শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষা উপকরণ ও উন্নয়ন সামগ্রী বিতরণের ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।




