খাগড়াছড়িতে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

খাগড়াছড়ি :
“প্রকৃতি থেকে অনুপ্রেরণায়, জলবায়ুর জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) সকালে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসটির কার্যক্রম শুরু হয়। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নারী জলবায়ু সহনশীল কমিটির সদস্য, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বার্তাসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা শোভাযাত্রা প্রদক্ষিণ করেন।
পরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের পার্বত্য চট্টগ্রামে জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা ও জীবিকার মান উন্নয়ন (করলিয়া) প্রকল্পের আওতায়, বাস্তুসংস্থান পুনরুদ্ধার ও টেকসই উন্নয়ন (ইআরআরডি-সিএইচটি) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সভায় করলিয়া প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা নবলেশ্বর দেওয়ান লায়ন সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গায়ত্রী খীসা, করলিয়া প্রকল্পের উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর উশ্যাংপ্রু মারমা, অচাইপাড়া নারী জলবায়ু সহনশীল কমিটির সভাপতি শ্রাবণী ত্রিপুরা, উত্তর মেহেতীবাগ নারী জলবায়ু কমিটির সভাপতি শাহীনা বেগমসহ বিভিন্ন কমিউনিটির প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পাহাড় কাটা, বন উজাড়, অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং পরিবেশ দূষণের কারণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ছে। এর ফলে পাহাড়ধস, খরা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠানের নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। একটি গাছ রোপণ, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং বনভূমি সংরক্ষণের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে সবাইকে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় জলবায়ু সহনশীল কমিটির সদস্যরা স্থানীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ, পানি সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের শেষে পরিবেশ সংরক্ষণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে খাগড়াছড়ি সহ পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।




