রামিসাসহ সারাদেশে নারী ধর্ষণ-হত্যার বিচারের দাবিতে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি॥
দেশজুড়ে নারী ও শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ‘ধর্ষণ বিরোধী সাধারণ শিক্ষার্থী ঐক্যজোট’। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে শিক্ষার্থীরা নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেছে।
শনিবার (২৩ মে ২০২৬) দুপুরে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। “শিশু ও নারী নিরাপত্তা হুমকির মুখে, এক হও”, “ধর্ষকের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না”, “বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ কর”সহ বিভিন্ন স্লোগানে মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মহাজনপাড়া হয়ে চেঙ্গী স্কয়ারে গিয়ে মিছিলটি শেষ করে এবং প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঢাকায় রামিসা ও পাহাড়ের চিংমা খিয়াং সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ ঘটনা সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। প্রতিনিয়ত ধর্ষণ, নিপীড়ন ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ ঘটলেও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্বলতার কারণে অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। এতে সমাজে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
বক্তারা আরও বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে নারী ও শিশু সুরক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী কবিতা চাকমা বলেন, “আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে নারী ও শিশুরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে। ধর্ষক ও হত্যাকারীদের বিচারহীনতা বন্ধ না হলে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়বে।”
শিক্ষার্থী কিরণ চাকমা বলেন, “নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে শুধু প্রতিবাদ করলেই হবে না, সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।”
এসময় অর্কি চাকমাসহ আরও অনেক শিক্ষার্থী বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের সদস্য ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। পুরো কর্মসূচিতে নারী ও শিশু নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ধর্ষণ-হত্যার বিচার দাবিতে সংহতি প্রকাশ করেন উপস্থিত জনতা।




