
থানচি , বান্দরবান :
বান্দরবানের থানচি উপজেলার বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন দুর্গম লিটক্রে সড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় উশৈপ্রু মারমা (৩৫) নামে এক গাড়ি চালকের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত উশৈপ্রু মারমা রাঙামাটি জেলার বেতবুনিয়া এলাকার সাবমারা গ্রামের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরের থানচি সীমান্ত সড়কে গাড়ি চালিয়ে সংসার চালাতেন তিনি। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২১ সালে ঠিকাদার সূজন দাশের সঙ্গে সীমান্ত সড়ক নির্মাণকাজে যুক্ত হয়ে থানচি এলাকায় আসেন তিনি। সাধারণত ৫–৬ মাস কাজ শেষে বর্ষা মৌসুমে নিজ গ্রামে ফিরে যেতেন।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে তার চালিত একটি পুরোনো ও জরাজীর্ণ জিপ গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে থানচি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত উশৈপ্রু মারমা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। তিনি স্ত্রী হ্রাশৈউ মারমা ও তিন সন্তান রেখে গেছেন—দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়ে মেওযাইন মারমা সাবমারা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী, ছেলে ক্যথোয়াইচিং মারমা প্রথম শ্রেণিতে পড়ে এবং ছোট মেয়ে বয়স মাত্র দেড় বছর।
নিহতের স্ত্রী হ্রাশৈউ মারমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামীই ছিল সংসারের সবকিছু। এখন ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে কীভাবে বাঁচব, জানি না।”
সাবমারা গ্রামের কারবারি চিংথোয়াইউ বলেন, নিহত গাড়িচালকের পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র। উপার্জনের একমাত্র ভরসা ছিলেন উশৈপ্রু মারমা। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি এখন চরম মানবিক সংকটে পড়েছে। শিশুদের পড়ালেখা, খাবার ও চিকিৎসা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তা ও মানবিক সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্গম সীমান্ত সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনায় আর কোনো পরিবার সর্বস্ব হারাতে না হয়।




