Breakingজাতীয়সারাদেশ

সিংগাইরে লকডাউনে যানবাহন ও মানুষের ভিড়

চেঙ্গী দর্পন প্রতিবেদক, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) : করোনাভাইরাস (কোভিড ১৯) সংক্রমণের উর্ধ্বগতিরোধে দেশব্যাপি বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে চলছে সর্বাত্মক লকডাউন। মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কে যানবাহন ও হাট-বাজারগুলোতে মানুষের ভিড় দেখা গেছে।

সরেজমিন শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকাল থেকেই উপজেলার জামসা, চারিগ্রাম, বায়রা, সাহরাইল, মানিকনগর ও জয়মন্টপসহ অন্যান্য বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারী ও খুচরা কাঁচা বাজারে মানুষ গা ঘেঁষে কেনাকাটা করছেন। মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মানানোর মতো ব্যবস্থাও নেই । বুধবার লকডাউন শুরুর প্রথম দিন সকাল থেকেই থানা এলাকাজুড়ে পুলিশের কড়াকড়ি অবস্থা ছিল লক্ষনীয়।

প্রতিদিনই উপজেলার প্রবেশদ্বার ধল্লা শহীদ রফিক সেতু সংলগ্ন চেকপোস্টে পুলিশের পক্ষ থেকে বেশ কঠোর মনোভাব দেখিয়ে প্রায় প্রতিটি গাড়ি আটকে যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে উপজেলার অন্যান্য রাস্তা-ঘাট ও অলিগলিতে রিকশা, হ্যালোবাইক, অটোবাইক, প্রাইভেটকার ও মাটি পরিবহনের মাহিন্দ্র ট্রলি এবং ট্রাক অনেকটা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে দেখে গেছে। উপজেলায় সংক্রমণের হার কম থাকলেও এভাবে চলতে থাকলে ভয়াবহ অবস্থার আশংকা করছেন অনেকে।

জামসা এলাকার আব্দুল খালেক বলেন, এ বাজারে বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। কেউ কোনো নির্দেশ মানছেন না। প্রশাসনের লোকজনের অনুপস্থিতিতে জনসাধারণ লকডাউনকে উপেক্ষা করছে। মানিকনগর এলাকার শহিদুল ইসলাম বলেন, নিয়ম-নীতির কোনো বালাই নেই। বাজারে মানুষের ভিড় থাকলেও প্রশাসনের লোকজনের উপস্থিতি টের পেলেই তারা সটকে পড়ে।

চারিগ্রাম বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি শাহিনুর রহমান বলেন, আমরা নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। একদিন কাজ বন্ধ থাকলে পরের দিন পরিবার নিয়ে কি খাব সে চিন্তায় থাকি। কাজেই লকডাউনে আমরা বাড়িতে বসে থাকতে পারি না। এ পর্যন্ত কারো কাছ থেকে কোনো সাহায্য সহযোগীতা পাইনি। যার জন্য করোনাকালীন সময়ে লকডাউন থাকলেও ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আসলাম হোসেন বলেন, মানুষকে নিজের জন্য হলেও স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। করোনাকালীন সময়ে লকডাউন নিশ্চিতে সরকারি নির্দেশনাগুলো প্রতিপালন করতেই মানবিকভাবে কাজ করছে পুলিশ।

Related Articles

Back to top button