পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগ
থানচি, বান্দরবান :
পার্বত্যাঞ্চলের দুর্গম এলাকায় বসবাসরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বান্দরবানের রুমা উপজেলার জারুলছড়ি পাড়া ও আরিফ পাড়ায় শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী এবং সৌর বিদ্যুৎ সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে।
জানা যায়, ৬৯ ব্রিগেডের অধীন ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের আওতাধীন বাকলাই পাড়া সেনা সাবজোনের উদ্যোগে এবং সুংসুং পাড়া আর্মি ক্যাম্পের অধীনস্থ থিন্দলতে ত্ল্যাং টিওবির তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সম্প্রতি জারুলছড়ি পাড়া ও আরিফ পাড়ার বিদ্যালয় গুলোর শিক্ষকদের বেতন প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়। এর ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে ফিরে এসে পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং তাদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় শিশুদের শিক্ষিত ও আলোকিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে এলাকাবাসী মনে করছেন।
এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জারুলছড়ি পাড়ার ধর্মযাজকের কাছে একটি সোলার ব্যাটারি ও একটি সোলার প্যানেল হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি আরিফ পাড়ার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি হোয়াইট বোর্ড, ২০টি খাতা, ২০টি কাঠ পেন্সিল, ২০টি কলম, ২০টি রাবার, তিনটি হোয়াইট বোর্ড মার্কার এবং একটি ডাস্টার বিতরণ করা হয়, যা শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করতে সহায়ক হবে।
সহায়তা গ্রহণ শেষে জারুলছড়ি পাড়ার ধর্মযাজক মেন পং মুরুং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “সেনাবাহিনী আছে বলেই আমরা পাহাড়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারছি। তারা সবসময় আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিল এবং এখনও আছে।”
বাকলাই পাড়া সেনা সাবজোনের সাবজোন কমান্ডার বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, বম জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন, শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা, চিকিৎসা সহায়তা, আর্থিক সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় জনগণকে নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, আস্থা ও ভ্রাতৃত্বের যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, শিক্ষা ও মানবিক সহায়তাভিত্তিক এ ধরনের উদ্যোগ সেই সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি দুর্গম এলাকার শিশুদের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।




