
গাজীপুর মহানগরীর পশ্চিম ভুরুলিয়া এলাকায় বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডে দুই ছেলেসহ একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আগুনে বাড়ির ছয়টি কক্ষ, দুটি মোটরসাইকেল ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। এতে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর সদর থানার পশ্চিম ভুরুলিয়া (লালমাটি) এলাকায় মিয়াজ উদ্দিন প্রধানের টিনশেড আধাপাকা বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন ব্যবসায়ী মহসিন প্রধান রুবেল (৩২), তাঁর স্ত্রী সাদিয়া বেগম ওরফে সুবর্ণা (২৬) এবং তাঁদের দুই ছেলে সোয়াদ প্রধান (৩) ও সাইয়ান প্রধান (৬)।
প্রথমে তাঁদের গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সেখানে সাদিয়া বেগম ও সাইয়ান প্রধান ভর্তি রয়েছেন। অন্যদিকে, মহসিন প্রধান রুবেল ও সোয়াদ প্রধান চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, আগুন লাগার পর স্থানীয় লোকজন তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাইদুল আলম চৌধুরী জানান, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আগুনে বাড়ির ছয়টি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের বরাতে জানান, দগ্ধ চারজন ওই ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভোরে পরিবারের সদস্যরা ঘরের একটি সোফায় আগুন দেখতে পান। পরে আগুন কাঠের তৈরি সিলিংয়ে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বারান্দায় রাখা দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরে যায়। পরে আগুন দ্রুত পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডে বাড়ির ছয়টি কক্ষ, দুটি মোটরসাইকেল ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এতে আনুমানিক ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।




