থানচিতে শিশু ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা
দুর্গম পাহাড়ে স্যালাইন সংকটে ভোগান্তি

বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রী ও তিন্দু ইউনিয়নের কয়েকটি পাহাড়ি গ্রামে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের বেশির ভাগই শিশু ও শিক্ষার্থী। স্থানীয় ফার্মেসি গুলোতে স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দেওয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ।
শুক্রবার (২২ মে) সকালে রেমাক্রী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হ্লাথোয়াইপ্রু মারমা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, রেমাক্রী ইউনিয়নের আদা ম্রো পাড়া, অংহ্লা খুমী পাড়া, লাইথাং মেম্বার পাড়া, রেমাক্রী বাজার, জাদি পাড়া ও কলা পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া তিন্দু ইউনিয়নের চিংথোয়াইঅং হেডম্যান পাড়াতেও বেশ কয়েকজন আক্রান্ত রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে রেমাক্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রেমাক্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেনার্ডিক্ট ত্রিপুরা বলেন, “আক্রান্তদের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি। দুর্গম এলাকার কারণে দ্রুত চিকিৎসা সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।”
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মংসাচিং মারমা জানান, রেমাক্রী বাজারের ফার্মেসিগুলোতে কলেরা স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, ডায়রিয়া পরিস্থিতির খবর পেয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন ও মেডিকেল টিম পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে দ্রুত মেডিকেল টিম পাঠানো এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।




