বান্দরবানে সরকারি সেবায় সহজ প্রবেশাধিকার উপর সচেতনতা মূলক কর্মশালা

থানচি,বান্দরবান:
বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে জনগণের বিভিন্ন সরকারি সেবায় সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এক জেলা পর্যায়ের সচেতনতা মূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৪ জুন) সকালে শহরের রয়েল হোটেলের মিলনায়তনের কর্মশালার আয়োজন করা হয়। Partnership for Resilient Livelihoods in CHT Region (PRLC) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন এলাকার ঐতিহ্যবাহী নেতা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন-এর সহায়তায় এবং বলিপাড়া নারী কল্যাণ সমিতি (BNKS)-এর বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনকেএস এর পিআরএলসি প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার হ্লাগ্যউ মারমা সঞ্চালনায় প্রকল্প সমন্বয়কারী পেশল চাকমা সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিলটন মুহুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অন্যান্যদের মধ্যে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুপন চাকমা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) প্রতিনিধি কথিকা খীসা প্রমূখ।
প্রধান অতিথি মিলটন মুহুরী বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সহায়তা, চিকিৎসা অনুদান সহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন এবং সরকারি সেবা গ্রহণে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, তথ্যের বৈষম্য দূরীকরণ এবং পার্বত্য অঞ্চলে সরকারি সেবা আরও সহজলভ্য করার প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথি সুপন চাকমা বলেন, নারী উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, নারী সহায়তা কর্মসূচি, আত্ম কর্মসংস্থান এবং নিরাপদ মাতৃত্বসহ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কসহ পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের জন্য সরকারি বিভিন্ন সেবার সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি সরকারী সেবাগ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও কার্যকর করা বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ধরনের আয়োজন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সরকারি সেবার সাথে সংযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভাপতি পেশল চাকমা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণকে সরকারি সেবা গ্রহণে সহজ প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করতে ঐতিহ্যবাহী নেতৃত্ব ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। দুর্গমতা থানচি উপজেলার সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় ঐতিহ্যবাহী নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কমিউনিটি পর্যায়ে জনগণের সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক নানা বিষয়ে তাদের মতামত অত্যন্ত প্রভাবশালী। অথচ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সেবা সম্প
র্কে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা ও ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে অনেক মানুষ সেবা গ্রহণে বঞ্চিত হন।
আয়োজকরা জানান , পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং সরকারি সেবায় সমঅধিকার নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




