দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিল পহর লাইব্রেরি

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
সুবিধাবঞ্চিত ও অসচ্ছল মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় দিনব্যাপী বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেছে সামাজিক সংগঠন পহর লাইব্রেরি। মানবিক এ উদ্যোগে তিন শতাধিক দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষা সুবিধা গ্রহণ করেন।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে দীঘিনালা উপজেলার জামতলী রাজেন্দ্র কার্বারী পাড়ায় পহর লাইব্রেরির কার্যালয়ে এ চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণরা চিকিৎসাসেবা নিতে ভিড় করেন। চিকিৎসকদের আন্তরিক সেবা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় দিনব্যাপী ক্যাম্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
ক্যাম্পে রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা পরামর্শ, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র প্রদান এবং বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এতে বিশেষ করে দরিদ্র ও অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হন।
চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. দিনেশ ত্রিপুরা, জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. এ. কে. এম. কামরুজ্জামান এবং জেনারেল হাসপাতাল মেমন-২-এর সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দীপা ত্রিপুরা।
চিকিৎসা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানজিল পারভেজ। তিনি ক্যাম্পের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন, চিকিৎসক ও আয়োজকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সেবা নিতে আসা মানুষের খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও বলেন, “প্রান্তিক মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও রক্ত পরীক্ষার মতো উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পহর লাইব্রেরি যে মহৎ উদ্যোগ নিয়েছে, তা অন্যদের জন্যও অনুকরণীয়। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি এ ধরনের সামাজিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পেলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য হবে।”
পহর লাইব্রেরির সভাপতি খনেশ্বর ত্রিপুরা রিচার্ড বলেন, “মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা এই বিনামূল্যের চিকিৎসা ও রক্ত পরীক্ষা ক্যাম্পের আয়োজন করেছি। ভবিষ্যতেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবকল্যাণে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী উপকারভোগীরা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক উল্লেখ করে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজনের দাবি জানান। উপজেলা প্রশাসনও সামাজিক সংগঠনগুলোর মানবিক কর্মকাণ্ডে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।




