খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জন্মাষ্টমী উদযাপন, মঙ্গল শোভাযাত্রা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫২তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে জেলা শহরে মঙ্গল শোভাযাত্রা, নামসংকীর্তন ও ধর্মীয় আলোচনা সভায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের শ্রী শ্রী কেন্দ্রীয় লক্ষ্মী-নারায়ণ মন্দির প্রাঙ্গণে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রার সূচনা হয়। পরে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চেঙ্গী স্কয়ার ঘুরে মন্দির প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী বিপুলসংখ্যক ভক্ত অংশ নেন। শ্রীকৃষ্ণের নামসংকীর্তন, ধর্মীয় সংগীত ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে জেলা শহর।
শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি ধনা চন্দ্র সেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমা। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ম্রাসাথোয়াই মারমা বলেন, শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি সত্য, ন্যায়, মানবতা ও সম্প্রীতির শিক্ষা ধারণেরও দিন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে খাগড়াছড়ির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।
এদিকে, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ২ নম্বর প্রকল্প গ্রাম ও বৃহত্তর সনাতনী ত্রিপুরা সমাজের উদ্যোগে সার্বজনীন শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণ থেকেও পৃথক মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে গাছবান এলাকা ঘুরে শোভাযাত্রাটি মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
পরে মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি জগমল ত্রিপুরা। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুজন চাকমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ধনেশ্বর ত্রিপুরা ও রাধা বঙ্কুবিহারী মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অমৃত লাল ত্রিপুরা।
সভায় সুজন চাকমা বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শন মানুষকে সত্য, ন্যায় ও মানবতার পথে চলার শিক্ষা দেয়। ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে বিভেদ নয়, ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য সৃষ্টি করে।
ধনেশ্বর ত্রিপুরা বলেন, জন্মাষ্টমীর মূল শিক্ষা হলো অন্যায় ও অশুভের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা। নতুন প্রজন্মের মাঝে শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে আরও সচেতন হতে হবে।
শুভ জন্মাষ্টমীর আয়োজন ঘিরে সকাল থেকেই মন্দির ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের আবহ তৈরি হয়।




