খাগড়াছড়িপার্বত্য অঞ্চল

খাগড়াছড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি যন্ত্রপাতি ও কফি-কাজু বাদামের চারা বিতরণ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
পার্বত্য অঞ্চলে কফি ও কাজুবাদাম চাষ সম্প্রসারণ, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক কৃষিকে আরও গতিশীল করতে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় কৃষকদের মাঝে বিপুল পরিমাণ কফি ও কাজুবাদামের চারা এবং আধুনিক কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

 

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে “কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প”-এর আওতায় কৃষক ও বাগান মালিকদের মধ্যে এসব চারা ও কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়।

 

প্রকল্পের আওতায় মোট ৮ হাজার ৩৫০টি কফি ও কাজুবাদামের জাতভিত্তিক চারা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে কাজুবাদামের জাতভিত্তিক প্রদর্শনীর জন্য ১৬০টি চারা এবং বাণিজ্যিক প্রদর্শনীর জন্য ৫০০টি চারা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া কফির জাতভিত্তিক প্রদর্শনীর জন্য ২৭০টি এবং বাণিজ্যিক প্রদর্শনীর জন্য ১ হাজার ১২৫টি চারা প্রদান করা হয়।

 

চারার পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদিত কফি ও কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাতকরণ সহজ করতে কফি পালপিং মেশিন, কফি ড্রায়ার মেশিন, কাজুবাদাম কাটিং মেশিনসহ বিভিন্ন আধুনিক কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

 

অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক শহিদুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে চারা ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুক্তা চাকমা।

 

এ সময় কৃষি কর্মকর্তা মুক্তা চাকমা বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলের আবহাওয়া ও মাটি কফি এবং কাজুবাদাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে এসব উচ্চমূল্যের ফসল চাষে আরও উৎসাহিত হবেন। এতে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে পার্বত্য অঞ্চলে নতুন কৃষি অর্থনীতির বিকাশ ঘটবে।”

 

তিনি আরও বলেন, কফি ও কাজুবাদাম বর্তমানে দেশের সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে খাগড়াছড়ি জেলার কৃষকরা এ খাত থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন করতে পারবেন।

 

উপকারভোগী কৃষক ও বাগান মালিকরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, উন্নত জাতের চারা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি পাওয়ায় তাদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং ফলন ও পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে। এতে কফি ও কাজুবাদাম চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

 

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাহাড়ি এলাকায় কফি ও কাজুবাদাম চাষের সম্প্রসারণ খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করবে।

Related Articles

Back to top button