Breakingখাগড়াছড়িপার্বত্য অঞ্চল

আরণ্যক বাচিক শিল্প চর্চা কেন্দ্রের ২য় বর্ষর্পূতি উদযাপন

স্টাফ রিপোর্টার,খাগড়াছড়ি :
ভাষা, কণ্ঠ ও অনুভূতির সৌন্দর্য মণ্ডিত মেলবন্ধনে খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে আরণ্যক বাচিক শিল্প চর্চা কেন্দ্রের ২য় বর্ষপূর্তি। “মনের ভাষা, জনের ভাষা” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত আবৃত্তি, কবির কণ্ঠে কবিতা, কথামালা ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মিলনপুর হয়ে ওঠে এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ।

 

বিশেষ তাৎপর্য হলো,খাগড়াছড়িতে এই প্রথমবারের মতো আরণ্যক বাচিকশিল্প চর্চাকেন্দ্রের একক অনুষ্ঠান হিসেবে আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়, যা সংগঠনের জন্য এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা সদরের মিলনপুর হোটেল গাইরিং সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন আরণ্যক বাচিকশিল্প চর্চাকেন্দ্র জেলা শাখার উপদেষ্টা ও মুক্ত গবেষক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন কবি হাফিজ রশিদ খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক পরিচালক তপু ত্রিপুরা এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা শাখার নির্বাহী পরিচালক চিংলামং চৌধুরী।

 

বক্তারা বলেন, শিল্প, সংস্কৃতি ও সাহিত্য চর্চা একটি সমাজকে আলোকিত ও প্রগতিশীল করে তোলে। যে সমাজ তার ভাষা ও সংস্কৃতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে সমাজ ধীরে ধীরে মূল্যবোধের সংকটে পড়ে। ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়,এটি আত্মপরিচয়ের ভিত্তি ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের প্রধান শক্তি। সাহিত্য চর্চা মানুষের ভেতরের মানবিকতা জাগ্রত করে এবং সমাজকে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নেয়।

 

তারা আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর সময়েও তরুণ প্রজন্মকে সাহিত্য ও বাচিকশিল্পের সঙ্গে যুক্ত রাখা সময়ের দাবি। আবৃত্তি শুধু শব্দ উচ্চারণের বিষয় নয়; এটি ভাব, বোধ ও চেতনার প্রকাশ। সাহিত্য ও শিল্পচর্চা যত বিস্তৃত হবে, ততই সমাজে নৈতিকতা, সৌন্দর্যবোধ ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি পাবে। তাই সাহিত্যচর্চা সকল সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

বর্ণিল আয়োজনে স্থানীয় আবৃত্তি শিল্পীরা কবিতা পরিবেশন করেন। কবির কণ্ঠে কবিতা পাঠ শ্রোতাদের মুগ্ধ করে এবং পুরো মিলনমেলায় সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গুণীজন সংবর্ধনা প্রদান করা হয়, যা অনুষ্ঠানে যুক্ত করে বিশেষ মর্যাদা।

Related Articles

Back to top button