শুধু গাছ লাগালেই নয়,পরিচর্যাতেই মিলবে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা: পাজেপ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, প্রতিটি গাছকে নিজের সম্পদ মনে করে নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আজ আর কোনো নির্দিষ্ট দেশের সমস্যা নয়; এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে কৃষি, পরিবেশ ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ক্রমেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। এই বাস্তবতা মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন হয়ে পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
রবিবার (৫ জুলাই) খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে করলিয়া প্রকল্পের উদ্যোগে, ইআরআরডি-সিএইচটি এবং ইউএনডিপির সহযোগিতায় ৩০টি সাইটের কৃষকদের মাঝে ২১ হাজার ফলজ, বনজ, ঔষধি ও ফুলজাতীয় গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
করলিয়া প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা নবলেশ্বর দেওয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরন চাকমা এবং করলিয়া প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার পরিচিতা খীসা।
শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, একসময় বাংলা আষাঢ় মাস মানেই ছিল টানা বর্ষণ। প্রচলিত ছিল,‘আষাঢ়ের বৃষ্টিতে মায়ের ঘরে ছেলে যেতে পারে না, ছেলের ঘরে মা যেতে পারে না।’ কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এখন সেই স্বাভাবিক ঋতুচক্র আর নেই। বর্ষাকালে প্রয়োজনীয় বৃষ্টি হয় না, আবার অন্য সময়ে অতিবৃষ্টি দেখা দেয়। কখনো বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ কিংবা চৈত্র মাসেও অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে, আবার প্রয়োজনের সময় দীর্ঘ খরায় কৃষকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
তিনি বলেন, সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় ধান রোপণসহ বিভিন্ন কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। পানির সংকটের কারণে কৃষি উৎপাদন কমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগজনক। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, ইউএনডিপির সহযোগিতায় পরিচালিত করলিয়া প্রকল্প সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় জনগণকে জলবায়ু সহনশীল কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার যে প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে, তা সফল করতে সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
গাছের পরিচর্যার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “শুধু গাছ লাগিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। প্রতিটি গাছকে নিজের সম্পদ মনে করে যত্ন নিতে হবে। একটি ফলজ গাছ বড় হলে তার সুফল পরিবার ভোগ করবে, ফুলের গাছ পরিবেশকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করবে আর বনজ গাছ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠবে।”
অনুষ্ঠানে আয়োজকরা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন সম্প্রসারণ, জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে করলিয়া প্রকল্পের মাধ্যমে এই চারা বিতরণ করা হচ্ছে।
আয়োজকদের মতে, কানাডা সরকারের অংশীদারিত্বে পরিচালিত এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে সবুজায়ন কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করবে এবং পরিবেশবান্ধব, টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



