পাহাড়ের জীবন চিত্র উঠে এলো -অরণ্যকথা বইয়ের মোড়কে

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা জাতীয় পদক-২০২১ প্রাপ্ত লেখক ও গবেষক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার একক রচিত গল্পগ্রন্থ “অরণ্যকথা”-এর মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (০৯ মে) বিকাল ৩টায় জেলা সদরের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রথমে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, সাহিত্য আড্ডা ও লেখককে ঘিরে অনুভূতি প্রকাশের পর্ব।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞ্যোহ্লা মং-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাইসছড়ি কলেজের অধ্যক্ষ অভিধা চাকমা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক ও গবেষক প্রভাংশু ত্রিপুরা, কবি ও নাট্যকার মৃত্তিকা চাকমা, বান্দরবান সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক বিপম চাকমা, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কৃতি চাকমা, লেখক ও গবেষক অংসুই মারমা এবং রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের গবেষণা কর্মকর্তা শুভ্রজ্যোতি চাকমা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, নাট্যশিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, পাহাড়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও মানুষের জীবনবোধকে সাহিত্যের ভাষায় তুলে ধরতে মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার লেখনী দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাঁর নতুন গল্পগ্রন্থ “অরণ্যকথা” পার্বত্য জনপদের জীবনচিত্র, সংগ্রাম ও মানবিক অনুভূতির এক অনন্য সাহিত্য দলিল হয়ে উঠবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, “অরণ্যকথা” শুধু একটি গল্পগ্রন্থ নয়; এটি পাহাড়ি জনপদের জীবন, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রকৃতিনির্ভর মানুষের অস্তিত্ব সংগ্রামের এক গভীর সাহিত্যিক প্রতিচ্ছবি। বইটির প্রতিটি গল্পে অরণ্যের মানুষের হাসি-কান্না, ভালোবাসা, বেদনা এবং আত্মপরিচয়ের লড়াই জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
সহজ অথচ হৃদয়স্পর্শী ভাষায় রচিত গল্পগুলো পাঠককে নিয়ে যায় পাহাড়ের নিভৃত জীবন ও বাস্তবতার গভীরে। নতুন প্রজন্মের কাছে পাহাড়ি সমাজ ও সংস্কৃতিকে জানার ক্ষেত্রেও বইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত দেন সাহিত্যবোদ্ধারা।
অনুষ্ঠান শেষে লেখক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা উপস্থিত অতিথি, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।




