খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
টানা কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাত থেকে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে জেলা সদর, মহালছড়ি ও দীঘিনালার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে নিম্নাঞ্চলের বহু বাসিন্দা পানিবন্দি হয়ে পড়েন। দেখা দেয় চরম জনদুর্ভোগ।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মহালছড়ির বাসিন্দারা। রাতভর বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢল নেমে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। পানির তোড়ে মহালছড়ি এলাকার সড়কের কয়েকটি অংশ তলিয়ে যাওয়ায় সকাল থেকে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুই জেলার যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
অন্যদিকে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের ইসলামপুর, শালবন, মোহাম্মদপুর, মুসলিমপাড়া ও মিলনপুরসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও বসতঘরেও পানি ঢুকে পড়ে। ভোর থেকে আকস্মিক পানিতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে সকাল গড়ানোর সঙ্গে বৃষ্টিপাত কমে আসায় ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করেছে।
এদিকে আকস্মিক বন্যায় দুর্ভোগে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
খাগড়াছড়ি জোনের উদ্যোগে জেলা শহরের বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে রান্না করা খাবার ও সুপেয় পানি বিতরণ করা হয়।
দুর্যোগের মুহূর্তে সেনাবাহিনীর এমন মানবিক উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন দুর্গত ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিপদের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে প্রতিবছরই জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। আকস্মিক বন্যায় জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন।
এদিকে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




