পাহাড়ি ঐতিহ্য ও নারী উদ্যোক্তাদের পণ্যের সমাহারে খাগড়াছড়িতে ‘উজেইবং মেলা’

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
নারী উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ, সৃজনশীলতা ও স্থানীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী ‘উজেইবং উদ্যোক্তা মেলা’। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও গহনা থেকে শুরু করে আধুনিক পোশাক, প্রসাধনীসহ দেশি-বিদেশি নানা পণ্যে সাজানো হয়েছে মেলার ২৪টি স্টল।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের নারাইখাইয়া উদ্যোগ কনভেনশন সেন্টারে মেলার উদ্বোধন করা হয়। উজেইবং উদ্যোক্তা নেটওয়ার্কের ফাউন্ডার জিলিয়ান তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমা।
মেলায় নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। ২৪টি স্টলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক, গহনা ও হস্তশিল্পের পাশাপাশি রয়েছে আধুনিক পোশাক, প্রসাধনী এবং বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি পণ্য।
আয়োজকদের মতে, মেলার মধ্য দিয়ে নারী উদ্যোক্তারা নিজেদের পণ্য সরাসরি ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্যকে বৃহত্তর পরিসরে পরিচিত করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
আয়োজকরা জানান, সারাবছর নিজ নিজ ব্যবসা ও কর্মব্যস্ততায় থাকা নারী উদ্যোক্তাদের একত্রিত করতেই প্রতিবছর এ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলাটি শুধু পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির জায়গা নয়, উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ পার্বত্য এলাকার নারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে বেকার নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের নিজেদের পণ্য বাজারজাত করার সুযোগ আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাহাড়ের মানুষের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে দেশ-বিদেশের মানুষের সামনে তুলে ধরতেও এ ধরনের মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৮ অক্টোবর শুরু হওয়া ‘উজেইবং উদ্যোক্তা মেলা’ চলবে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত। পাঁচ দিনের এ আয়োজনে স্থানীয় উদ্যোক্তা, ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে মেলা প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।




