Breakingখাগড়াছড়ি

পানছড়ির শান্তিপুর অরণ্য কুটিরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ২০তম কঠিন চীবরদান সম্পন্ন

নিজেস্ব প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার ৫নং উল্টাছড়ি ইউনিয়নের শান্তিপুর অরণ্য কুটিরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ২০তম দানশ্রেষ্ঠ কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

 

 

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৫টা থেকে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এ ধর্মীয় আয়োজন শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে পূজনীয় ভিক্ষুসংঘের উদ্দেশ্যে চীবরদান ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

 

 

অনুষ্ঠানে শান্তিপুর অরণ্য কুটিরের অধ্যক্ষ ভদন্ত শাসন রক্ষিত মহাথেরের উপস্থিতিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে মহামতি গৌতম বুদ্ধের স্মরণে ও তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে বর্ণাঢ্য Candle Lighting & Sky Lantern Releasing Ceremony 2026 আয়োজন করা হয়। এ সময় মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও আকাশে ফানুস উড়িয়ে উৎসবের শুভ সূচনা করা হয়।

 

 

দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে ছিল হাজারো প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, আকাশে ফানুস ওড়ানো, জুম থেকে তুলা সংগ্রহ, তুলা থেকে সুতা তৈরি, সুতা বোনা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন এবং পূজনীয় ভিক্ষুসংঘের প্রতি ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ নানা ধর্মীয় রীতি-নীতি।

 

 

বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, কঠিন চীবরদান শুধু দান-অনুষ্ঠান নয়; এটি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ত্যাগ, সংযম, সম্প্রীতি, মৈত্রী ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য নিদর্শন। কঠিন চীবর তৈরির ঐতিহ্যবাহী প্রক্রিয়ায় তুলা সংগ্রহ থেকে শুরু করে সুতা তৈরি, কাপড় বোনা ও চীবর প্রস্তুত করার বিষয়টি এ উৎসবকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। ভক্ত-উপাসকরা পুণ্যলাভের আশায় পূজনীয় ভিক্ষুসংঘের হাতে চীবর ও বিভিন্ন দানীয় সামগ্রী অর্পণ করেন।

 

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা নাসরিন, পানছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ, শান্তিপুর অরণ্য কুটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অসেতু বিকাশ চাকমা, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট রিপল চাকমা ও সদস্য রুমেল মারমা।

 

 

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদের জেলা কমিটির সভাপতি সোধাঅং মারমা, সাবেক পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কংজপ্রু মারমা, লক্ষীছড়ি উপজেলা বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদের সভাপতি আঞোমং মারমাসহ বিভিন্ন এলাকার বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং হাজারো পুণ্যার্থী।

 

 

দুই দিনব্যাপী এ ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে শান্তিপুর অরণ্য কুটির ও আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় এক আনন্দঘন ও পুণ্যময় পরিবেশ। দূর-দূরান্ত থেকে আগত ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ নারী-পুরুষ ও পুণ্যার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন পরিণত হয় মিলনমেলায়।

 

 

ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ, মৈত্রী ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে শান্তিপুর অরণ্য কুটিরের ২০তম দানশ্রেষ্ঠ কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

Related Articles

Back to top button