খাগড়াছড়িতে শিল্পকর্ম বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্রের যাত্রা শুরু

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
পাহাড়ের শিল্প-সংস্কৃতির ঐতিহ্য সংরক্ষণ, স্থানীয় চিত্র শিল্পীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাদের সৃজনশীল শিল্পকর্মের বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে জেলা চিত্রশিল্পীদের জন্য একটি শিল্পকর্ম বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নির্দেশিত ১৮০ দিনের কর্মসূচি এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞ্যোহ্লা মং-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ এবং খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরন চাকমা। এছাড়াও ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা, সদস্য, স্থানীয় চিত্রশিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পাহাড়ের প্রকৃতি, জীবনধারা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে স্থানীয় শিল্পীরা দীর্ঘদিন ধরে নান্দনিক শিল্পকর্ম সৃষ্টি করে আসছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রদর্শন ও বিপণনের সুযোগ না থাকায় অনেক শিল্পী তাঁদের মেধা ও সৃজনশীলতার যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হন। নতুন এই বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্র শিল্পীদের জন্য একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যেখানে তারা নিজেদের শিল্পকর্ম প্রদর্শনের পাশাপাশি বিক্রয়ের সুযোগও পাবেন।
তারা আরও বলেন, শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশ একটি জাতির আত্মপরিচয়কে সমৃদ্ধ করে। তাই চিত্রশিল্পীদের উৎসাহিত করা, তাদের সৃজনশীলতাকে মূল্যায়ন করা এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা সময়ের দাবি। এই উদ্যোগ স্থানীয় শিল্পীদের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং খাগড়াছড়ির শিল্প-সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
উদ্বোধনের পর অতিথিরা প্রদর্শনী কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং সেখানে প্রদর্শিত বিভিন্ন শিল্পকর্ম ঘুরে দেখেন। পাহাড়ের জীবন, প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ তুলে ধরা শিল্পকর্মগুলো উপস্থিত দর্শনার্থীদের ব্যাপকভাবে মুগ্ধ করে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এই কেন্দ্র শুধু শিল্পকর্ম বিক্রয়ের স্থান নয়; বরং খাগড়াছড়ির শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশ, শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং নতুন প্রজন্মকে শিল্পচর্চায় উদ্বুদ্ধ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর ধরে তারা দূরবর্তী ছড়া ও ঝিরি থেকে পানি সংগ্রহ করে ব্যবহার করতেন। এতে যেমন সময় ও শ্রম ব্যয় হতো, তেমনি বিশুদ্ধ পানির অভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিও ছিল। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ তাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকার বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাস্তবায়িত এই সৌরশক্তি চালিত সুপেয় পানি প্রকল্প শুধু পানির সংকট দূর করবে না, বরং স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
দুর্গম পাহাড়ের বুকে সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগ নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা পেয়ে উচ্ছ্বসিত চিকনচান পাড়ার মানুষ এখন দেখছেন একটি সুস্থ, নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় আগামী দিনের স্বপ্ন।




