থানচিতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্যাপন

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের থানচিতে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোওয়ে (প্রবারণা পূর্ণিমা) উদ্যাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী এ উৎসবের সমাপ্তি হয়। এতে উপজেলার প্রায় ১১৫টি মারমা গ্রামের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা অংশ নেন।
উৎসব উপলক্ষে বর্ণাঢ্য ক্কলোমপঙ্খি রথ শোভাযাত্রা, সাঙ্গু নদীতে রথ বিসর্জন, ধর্মদেশনা, পিণ্ডদান, হাজার প্রদীপ প্রজ্বালন, ফানুস ওড়ানো, পিঠা তৈরি, ঘিলা খেলা, ফুটবল প্রতিযোগিতা ও ঐতিহ্যবাহী জাইকহ্ নৃত্যের আয়োজন করা হয়।
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য অঞ্চলের মারমা, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও বড়ুয়া সম্প্রদায়ের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে প্রবারণা পূর্ণিমা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্ষাবাস শেষে এ উৎসবের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, প্রার্থনা ও নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি পালন করেন।
উৎসবের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সহযোগিতায় ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর প্রতিনিধি মংশৈম্রাই মারমা, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট উবাথোয়াই মারমা, থানচি প্রেসক্লাবের সভাপতি মংবোওয়াংচিং মারমা অনুপমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
উৎসব উদ্যাপন কমিটির সভাপতি বাবু মারমা, সাধারণ সম্পাদক জয় মারমা, কমিটির কোষাধ্যক্ষ উশৈওয়ান মাস্টারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আয়োজন সফল করতে সহযোগিতা করেন।
উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয় মারমা বলেন, প্রথমবারের মতো এ উৎসব আয়োজনের দায়িত্ব পালন করতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। উৎসবে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে।
কমিটির কোষাধ্যক্ষ উশৈওয়ান মাস্টার বলেন, সবার সহযোগিতায় বৌদ্ধ ধর্মের ঐতিহ্যবাহী এ উৎসব সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। উৎসবকে ঘিরে মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।




