উখিয়ায় গভীর নলকূপ খনন করতে গিয়ে গ্যাসের প্রবাহ, জ্বলছে আগুন

কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ স্থাপন করতে গিয়ে মাটির নিচ থেকে গ্যাসের মতো পদার্থ বের হওয়ার পর আগুন জ্বলে উঠেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে জ্বলে ওঠা আগুন দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে জ্বলছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী। তবে ভূগর্ভ থেকে নির্গত পদার্থের তীব্র প্রবাহের কারণে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইনানী ছোট খালের উত্তর পাশে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবউল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বাড়ির আঙিনার পাশে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছিল। খননকাজ প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে পৌঁছানোর পর মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ মাটির নিচ থেকে গ্যাসের মতো পদার্থ বের হতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে আগুন ধরে যায়।
বাড়ির মালিক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, কয়েক দিন ধরে তাঁর বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছিল। মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকেরা কাজ করার সময় হঠাৎ মাটির নিচ থেকে গ্যাস বের হতে থাকে। একপর্যায়ে আগুন ধরে গেলে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। গ্যাসের প্রবাহ তীব্র হওয়ায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। তবে আগুন যাতে আশপাশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ওই এলাকায় বসতবাড়ি ও পর্যটকদের চলাচল থাকায় নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং উৎসুক জনতার ভিড় নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়া ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু আবদুল্লাহ বলেন, ঘটনার পর থেকে তাঁরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। তবে এখনো আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঢাকা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল রওনা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সিরাজ জানান, সকালে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। সময়ের সঙ্গে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বিচকর্মী বেলাল উদ্দিনও আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার কথা জানান।
এদিকে, আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। এতে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
মাটির নিচ থেকে নির্গত পদার্থটি প্রকৃতপক্ষে প্রাকৃতিক গ্যাস কি না এবং ওই এলাকায় ভূগর্ভস্থ গ্যাসের মজুত রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।




