খাগড়াছড়িপার্বত্য অঞ্চল

দুর্গম এলাকায় মা-শিশুর সেবায় প্রশিক্ষিতদের এগিয়ে আসার আহ্বান

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
‘আপনাদের একজনের মাধ্যমে যদি কোনো অসুস্থ মা কিংবা শিশুর সময়মতো সেবা নিশ্চিত হয়, যদি একটি জীবনও রক্ষা পায়, তাহলেই এই উদ্যোগ সার্থক হবে।’—খাগড়াছড়িতে গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে এ কথা বলেছেন খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় খাগড়াছড়ি জোন সদরে দুই সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেনা রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে ৫ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। পরে তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন।

 

 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক বলেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে প্রসূতি মা কিংবা অসুস্থ শিশুর জরুরি মুহূর্তে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের প্রাথমিক সহায়তা ও সঠিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

 

 

তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে আসা প্রশিক্ষণার্থীরা গর্ভবতী মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা নিজ নিজ এলাকায় কাজে লাগানোর মাধ্যমে মানুষের উপকারে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

 

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, ‘সনদপত্রটি শুধু প্রশিক্ষণের স্বীকৃতি নয়; এর সঙ্গে মানুষের সেবা ও কল্যাণের একটি দায়িত্বও যুক্ত হয়েছে।’

 

 

তিনি জানান, প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয় মৌলিক উপকরণসহ একটি করে কিট ব্যাগ দেওয়া হয়েছে। এসব সরঞ্জাম যথাযথ ব্যবহারের পাশাপাশি নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে দক্ষতা ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

 

 

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা ও নার্সিংসেবায় শুধু জ্ঞান অর্জন যথেষ্ট নয়, নিয়মিত চর্চা ও প্রয়োগ জরুরি। আর্থিক প্রতিদান সবসময় পাওয়া না গেলেও জনস্বার্থে মানুষের জীবন রক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত করার মানসিকতাই হবে প্রশিক্ষণের বড় অর্জন।

 

 

প্রশিক্ষণ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্সসেবা, সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক ও প্রশিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়েছেন। এ জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো একজন মা বা শিশুর জীবন রক্ষা করাই হবে প্রশিক্ষণের সার্থকতা।

 

 

ভবিষ্যতেও দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আজকের এই প্রশিক্ষণ যেন এখানেই শেষ না হয়; বরং আপনাদের মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে পড়ুক মানুষের দোরগোড়ায়।’

 

 

অনুষ্ঠানে জেলা সিভিল সার্জন ডা. রতন খীসা, জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমিনুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা প্রশিক্ষণার্থীরা গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেন। সনদ ও প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম হাতে নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় মানুষের সেবায় তা কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন

Related Articles

Back to top button