গুইমারায় তিন শহীদের স্মরণে সভা

গুইমারা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির গুইমারায় আক্রই, আথুই ও থৈইচিং মারমাকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা থেকে রামেসু বাজারের ঘটনা সহ পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং পাহাড়িদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গুইমারা রামেসু বাজারসংলগ্ন এলাকায় শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদ ও ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির শুরুতে অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয়। পরে সাইরেন বাজিয়ে দুই মিনিট নীরবতা পালন এবং শপথ পাঠ করা হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।
ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমার সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য দেন শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদের সভাপতি রূপসি চাকমা, লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রবীল কুমার চাকমা, লক্ষ্মীছড়ি কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রতন বিকাশ চাকমা, সিন্দুকছড়ির সাবেক ইউপি সদস্য সুধুঅং মারমা ও দুল্যাতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ত্রিলোন চাকমা। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি রেশমি মারমা।
বক্তারা পাহাড়ে বিচারহীনতা, দমন-পীড়ন ও ভূমি দখলের অভিযোগ তুলে এসবের অবসান এবং সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। তাঁরা রামেসু বাজারের ঘটনাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
উষাতন চাকমা বলেন, বোনের ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে আক্রই, আথুই ও থৈইচিং মারমা নিহত হয়েছেন। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানান।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জুনান চাকমা ও রুবেল ত্রিপুরা এবং ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আক্রই, আথুই ও থৈইচিং মারমা নিহত হন।
স্মরণসভা থেকে আগামী ১৩ অক্টোবর ভরদ্বাজ মুনির শহীদ দিবস উপলক্ষে কনভেনশন আয়োজনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। পরে সাংস্কৃতিক স্কোয়াড প্রতিবাদী নাট্যকলা প্রদর্শন করে। অনুষ্ঠান শেষে অগ্রণী শিশু-কিশোর কেন্দ্রের সদস্যরা কয়েকটি কুশপুত্তলিকা পিটিয়ে আগুনে পোড়ান।




