পার্বত্য অঞ্চলবান্দরবান

থানচি-রুমার কয়েকটি সড়ক ও পর্যটনকেন্দ্র ফের উন্মুক্ত

স্টাফ রিপোর্টার, বান্দরবান :
দীর্ঘ বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া বান্দরবানের থানচি ও রুমা উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পর্যটনকেন্দ্র আবারও সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

 

 

বুধবার (১২ আগস্ট) জেলা প্রশাসনের এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এসব সড়ক ও পর্যটনকেন্দ্র উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গণবিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সানিউল ফেরদৌস।

 

 

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, থানচি উপজেলার তামাতুঙ্গী থেকে ২৪ কিলোমিটার টিওবি পর্যন্ত এবং তিন্দুমুখ থেকে ঙাফাখুম পর্যন্ত সড়ক উন্মুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে রুমা উপজেলার কেওক্রাডং থেকে সুংসুংপাড়া পর্যন্ত পর্যটনপথ এবং রিজুক ঝরনাও সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

 

 

বর্ষা মৌসুমে টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দুর্গম পাহাড়ি সড়কগুলোতে ভূমিধস, সড়ক ভেঙে যাওয়া ও আকস্মিক ঢলের ঝুঁকি তৈরি হয়। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। এতে দুর্গম এলাকার মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি পর্যটননির্ভর অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

 

সড়ক ও পর্যটনপথ খুলে দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে আবারও পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী উন্মুক্ত সড়ক ও পর্যটনপথে চলাচলের সময় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বর্ষাকালে পাহাড়ি এলাকার আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। তাই প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার জন্য স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

 

গণবিজ্ঞপ্তিতে জননিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সব বিধিনিষেধ ও নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।

 

 

প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি পর্যটন খাতে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পাহাড়ি প্রকৃতি ও আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার কারণে সতর্কতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

Related Articles

Back to top button