পার্বত্য অঞ্চলবান্দরবান

বন্যা-পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার পরিবার, ঘরে ঘরে যাচ্ছে পুনর্বাসনের সহায়তা

থানচি, বান্দরবান:
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে বিপর্যস্ত বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম জনপদের পাহাড়ে হত দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ- আল- ফয়সাল।

 

 

সম্প্রতিক কালে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে বিপর্যস্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজার পরিবার।

 

দুর্গম পাহাড়ি গ্রামে গঞ্জে ছুটে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে পুনর্বাসনের খাদ্য সহায়তা। এতে দুর্যোগের পর নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

 

 

থানচি উপজেলার চারটি ইউনিয়নে বন্যা ও পাহাড় ধসে মোট ২ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পরিবারের পুনর্বাসনে মোট ২ হাজার পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ৬২৫ পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত হয়েছে ১ হাজার ৩৭৫ পরিবার।

 

 

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইতোমধ্যে ২৪০ পরিবারসহ মোট ৮৬২ পরিবারের হাতে পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। প্রতিটি পরিবারের জন্য রয়েছে ২০ কেজি চাল ও ২ কেজি আলু। প্রশাসনের কর্মকর্তারা দুর্গম পাড়াগুলোতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে সরাসরি এসব সহায়তা তুলে দিচ্ছেন।

 

 

স্থানীয় এমপি রাজ পুত্র সাচিংপ্রু জেরী পরামর্শে উপজেলা প্রশাসন,ইউনিয়ন পরিষদ,স্থানীয় এনজিও সংস্থা,কৃষি বিভাগ, বিএনপি, জেলা পরিষদ সমন্বয়ের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন পাড়ায় ইতোমধ্যে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চমি পাড়ায় ১৬ জন, সিংচং পাড়ায় ১৪ জন, প্রেয়সিন পাড়ায় ১০ জন, তংক্ষং পাড়ায় ২৫ জন, নিলট পাড়ায় ৮ জন, ঙুইখয় পাড়ায় ৫ জন, শাহজাহান পাড়ায় ১১ জন, বোর্ডিং পাড়ায় ১৬ জন এবং কুংহ্লা-কাইথন এলাকায় ২২ জনসহ বিভিন্ন পাড়ার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার রয়েছে।

 

 

সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছানো হচ্ছে নেপিও পাড়া পয়েন্টে—সেখানে ১১০ জনের জন্য বরাদ্দ রয়েছে।

 

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নির্ধারিত ১ হাজার ৩শত ৭৫ পরিবারের মধ্যে ৮৬২ পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

 

এরপর বাকি পরিবারের কাছেও পর্যায়ক্রমে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামীকাল রোববার ০৯ আগস্ট সকালে থানচি উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নের নিয়াপিউ ম্রো পাড়া, অংসাউ খিয়ান পাড়া, মংখয় খিয়ান পাড়াসহ প্রায় ৮ থেকে ৯টি দুর্গম পাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে পুনর্বাসন সহায়তা তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে বলীপাড়া ও থানচি সদর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে সহায়তা বিতরণের কার্যক্রম শেষ হয়েছে।

 

 

দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাড়ায় পাড়ায় যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বর্ষণের কারণে যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিনে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনা করে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

 

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, বন্যা ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দুর্গম এলাকায় যেসব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের কাছেও যেন সহায়তা পৌঁছায়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন।

 

 

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও জীবিকার ক্ষতির পর অনেক পরিবার এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে ঘরে ঘরে গিয়ে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়াকে শুধু ত্রাণ নয়, দুর্যোগ কবলিত মানুষের পুনরায় দাঁড়ানোর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

 

 

দুই হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে পুনর্বাসন সহায়তা পৌঁছানো শেষ হলে থানচির দুর্গম পাহাড়ি জনপদের বহু পরিবার অন্তত খাদ্যসংকটের তাৎক্ষণিক চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পাবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় প্রশাসন ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ।

Related Articles

Back to top button