পরিবেশ,পানি ও স্বাস্থ্য সেবায় সমন্বিত উদ্যোগে সচেতনতা বাড়ছে থানচিতে

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলায় পরিবেশ সংরক্ষণ, নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সমন্বিত বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কারিতাস বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পিএইপি-৩ প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে শান্তিরাজ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিবেশ দূষণ রোধ ও সবুজায়নের লক্ষ্যে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে নতুন প্রজন্মকে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে বৃক্ষরোপণের কৌশল শেখানো হয়।
একইদিন দুপুরে “Water & Gender: পানি ও লিঙ্গ সমতা” প্রতিপাদ্যে বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। বক্তারা বলেন, নিরাপদ পানি প্রাপ্তি মানুষের মৌলিক অধিকার এবং পানি ব্যবস্থাপনায় নারী-পুরুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। পাহাড়ি অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এর আগে শনিবার (১১ এপ্রিল) উপজেলার নকথাহা ত্রিপুরা পাড়ায় “Annual Health Campaign” শীর্ষক একটি স্বাস্থ্য ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রামবাসীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যপরামর্শ, প্রাথমিক চিকিৎসা, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা, মা ও শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়। শতাধিক গ্রামবাসী এ সেবা গ্রহণ করেন, যার মধ্যে নারী ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
প্রধান শিক্ষিকা সিস্টার রোজী হাদিমার সভাপতিত্বে এবং প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা ক্লেমেন্ট লিংকন গোমেজের সঞ্চালনায় আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এস কে জহির উদ্দিন। এছাড়াও উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মংবোওয়াংচিং মারমা অনুপম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, পানি ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবায় সচেতনতা বৃদ্ধি বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করলে পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
আয়োজকরা জানান, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সমন্বিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




