খাগড়াছড়িপার্বত্য অঞ্চলসারাদেশ

খাগড়াছড়িতে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হোলি উৎসব

স্টাফ রিপোর্টার,খাগড়াছড়ি :
রঙের ছোঁয়ায় আনন্দের বিস্তার, আবিরের মায়ায় মিলনের বার্তা,পাহাড়ি শহর খাগড়াছড়ি যেন একদিনের জন্য রূপ নিল রঙধনুর নগরীতে। লাল, হলুদ, সবুজ আর নীলের উচ্ছ্বাসে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হলো হোলি উৎসব।

 

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে জেলা শহরের শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুরু হয় দিনব্যাপী এ আয়োজনের আনুষ্ঠানিকতা। সকাল গড়াতেই প্রাঙ্গণে ভিড় জমাতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশুরা। নতুন পোশাকে সেজে, হাতে রঙিন আবির আর মুখে উচ্ছ্বাসের হাসি—সব মিলিয়ে প্রাণবন্ত এক মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো এলাকা।

 

হোলি মানেই ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে রঙে রাঙিয়ে দেওয়ার আনন্দ। ক্ষণিকের মধ্যেই রঙের উল্লাসে রঙিন হয়ে ওঠে চারপাশ। কেউ আলতো করে বন্ধুদের গালে রঙ ছুঁইয়ে দিচ্ছেন, কেউবা হাসিমুখে জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন—আবিরের ধোঁয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছিল বন্ধুত্ব আর ভালোবাসার বার্তা।

 

উৎসবে অংশ নিতে আসা চেলসি ত্রিপুরা বলেন,“আমরা বন্ধুরা সবাই মিলে এখানে এসেছি। সারা বছর এমন আনন্দের সুযোগ পাই না। হোলি আমাদের কাছে শুধু রঙের উৎসব নয়, এটা বন্ধুত্ব আর ভালোবাসার উৎসব। সবাই একসঙ্গে মিলে উদযাপন করতে পারছি—এটাই সবচেয়ে ভালো লাগছে।”

 

তরুণ-তরুণীদের উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল পুরো আয়োজন। কেউ স্মৃতিবন্দী করেছেন রঙিন মুহূর্ত, কেউ ব্যস্ত সেলফিতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের প্রাণোচ্ছল দৃশ্য। পাহাড়ি শহরের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি যেন রঙের আবহে নতুন মাত্রা পায়।

 

আরেক অংশগ্রহণকারী প্রিয়ন্তী দে বলেন,“পাহাড়ে আমরা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে থাকি। আজকে সবাই একে অপরকে রঙ মেখে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। এতে আমাদের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।”

 

সবচেয়ে বেশি প্রাণচাঞ্চল্য ছিল শিশুদের মধ্যে। ছোট ছোট হাতে রঙের প্যাকেট, মুখে নির্মল হাসি—তাদের আনন্দে যেন পুরো আয়োজন প্রাণ ফিরে পায়। অভিভাবকরাও জানান, এমন উৎসব শিশুদের মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করে।

 

খাগড়াছড়ি হোলি উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক জুয়েল দে বলেন,“খাগড়াছড়ি বহু জাতিগোষ্ঠী ও সংস্কৃতির মিলনভূমি। আমরা চাই হোলির এই উৎসব সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিক। সবাই যেন ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে—এই লক্ষ্যেই আমাদের আয়োজন।”

 

প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় পালিত হলেও এবারের আয়োজনে ছিল আধুনিকতার ছোঁয়া। গান, আড্ডা, শুভেচ্ছা বিনিময় আর রঙের উচ্ছ্বাসে জমে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।

 

উৎসব শেষে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার আহ্বান জানান অংশগ্রহণকারীরা।
খাগড়াছড়ির আকাশে তাই ভেসে বেড়ায় একটাই বার্তা—রঙে রঙে মিলুক প্রাণ, উৎসবে জাগুক সম্প্রীতির গান।

Related Articles

Back to top button