খাগড়াছড়িতে জলবায়ু সহনশীল ও আত্মনির্ভরশীল কমিউনিটি গঠনে ২ দিনব্যাপী কারিগরি প্রশিক্ষণ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
পার্বত্যাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, স্থানীয় সম্পদের সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়িতে দুই দিনব্যাপী কারিগরি সেবাদাতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে জলবায়ু সহনশীল ও আত্মনির্ভরশীল কমিউনিটি গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে সোলার প্যানেল স্থাপন, প্লাম্বিং, সৌরবিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
শুক্রবার ও শনিবার খাগড়াছড়ি জেলা সদরের আনন্দ ট্রেনিং সেন্টার, পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র এবং মিলন কার্বারি পাড়ায় কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স থ্রু লোকালি লেড ইনক্লুসিভ অ্যাডাপটেশন (CoRLIA)-এর উদ্যোগে এবং ইকোসিস্টেমস রেস্টোরেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট ইন সিএইচটি (ERRD-CHT) প্রকল্পের আওতায় ইউএনডিপি (UNDP)-এর সহযোগিতায় ডব্লিউসিআরসি (WCRC) সম্পদের স্থানীয় পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ (O&M) জোরদারকরণে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণে খাগড়াছড়ি জেলার নয়টি উপজেলা থেকে আগত প্লাম্বার, সৌরবিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎকর্মী, পানি ব্যবস্থাপনা কর্মীসহ বিভিন্ন কারিগরি পেশার ৩০ জন অংশগ্রহণ করেন। তাদের স্থানীয় পর্যায়ে স্থাপিত বিভিন্ন জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো ও জনসেবামূলক সম্পদের কার্যকর পরিচালনা, নিয়মিত রক্ষণা বেক্ষণ, দ্রুত ত্রুটি শনাক্তকরণ ও সমাধান, নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থাপনার ওপর বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় নারী ও পুরুষ উভয়ের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধিতে। অংশগ্রহণকারীদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সোলার প্যানেল স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ নিরাপত্তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই কারিগরি সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া হয়।
দুই দিনের প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে সনদপত্র, প্রয়োজনীয় কারিগরি সরঞ্জাম এবং টুলস বক্স বিতরণ করা হয়, যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা প্রয়োগে সহায়ক হবে।
আয়োজকরা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থাপিত জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো ও জন সেবামূলক সম্পদ দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর রাখতে স্থানীয় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের প্রশিক্ষণ একদিকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে, অন্যদিকে কমিউনিটির নিজস্ব সক্ষমতা ও আত্মনির্ভরশীলতা শক্তিশালী করবে।
প্রশিক্ষণের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন করলিয়া প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার পরিচিতা খীসা এবং জেলা কর্মকর্তা নবলেশ্বর দেওয়ান লায়ন। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন দুইজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক, যারা মাঠপর্যায়ে ব্যবহারিক ও বাস্তবমুখী কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী, কার্যকর ও বাস্তবধর্মী হিসেবে অভিহিত করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তাদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ কারিগরি জনবল তৈরি হলে উন্নয়নমূলক অবকাঠামো দীর্ঘদিন সচল থাকবে, সেবার মান উন্নত হবে এবং সাধারণ জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধির এ উদ্যোগ খাগড়াছড়ির টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।




