চট্টগ্রাম অঞ্চলসারাদেশ

রাজাঝির দিঘির পাড়ে ৫ শতাধিক অবৈধ দোকান, দখল-দূষণে হারাচ্ছে ঐতিহ্য

ফেনী প্রতিনিধি:

ফেনী শহরের প্রাণকেন্দ্রে ঐতিহাসিক রাজাঝির দিঘির পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে পাঁচ শতাধিক অবৈধ দোকান। দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম পাড়জুড়ে এসব দোকানের কারণে সংকুচিত হয়েছে চলাচলের পথ। দোকানের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে দিঘিতে। ফলে দখল ও দূষণে হারিয়ে যাচ্ছে শহরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী এই জলাশয়ের সৌন্দর্য।

 

 

১০ দশমিক ৩২ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত রাজাঝির দিঘি ত্রিপুরার মানিক্য রাজবংশের এক রাজার খনন করা বলে জানা যায়। ১৮৭৫ সালে এই দিঘিকে কেন্দ্র করেই ফেনী মহকুমা সদর প্রতিষ্ঠিত হয়। একসময় দিঘিটি ছিল শহরের অন্যতম আকর্ষণ ও দর্শনীয় স্থান।

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ১১ জনের একটি প্রভাবশালী চক্র দোকানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়। এসব দোকান ঘিরে মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বাড়ছে। দোকানগুলো থেকে নিয়মিত টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

 

 

এর আগে ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৯ সালে প্রশাসন কয়েক দফা উচ্ছেদ অভিযান চালালেও কিছুদিন পর আবার দখল হয়ে যায় দিঘির পাড়। বর্তমানে সেখানে পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই পাঁচ শতাধিক দোকান চলছে বলে জানিয়েছেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির উদ্দিন। তাঁর ভাষ্য, এসব দোকান থেকে পৌরসভা কোনো ভাড়া পায় না।

 

 

দিঘির পাড়ের ব্যবসায়ী মোর্শেদ আলম বলেন, এসব দোকানের ওপর দুই হাজারের বেশি মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল। তাই উচ্ছেদের আগে হকার্স মার্কেট নির্মাণ করে তাঁদের পুনর্বাসনের দাবি জানান তিনি।

 

 

ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আহমেদ মিষ্টার বলেন, সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ ব্যবসা চলতে পারে না। দ্রুত দোকানগুলো উচ্ছেদ করে দিঘির সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

 

 

ফেনী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, পরিকল্পিতভাবে দোকান বরাদ্দ ও সন্ধ্যাকালীন বাজার চালু করা হলে দিঘির পাড় দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসন সম্ভব। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদা আদায় করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

ফেনী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, দিঘির পাড়ের অবৈধ দোকান উচ্ছেদে জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দিঘির পরিবেশ রক্ষায় এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা প্রয়োজন।

Related Articles

Back to top button