খাগড়াছড়িপার্বত্য অঞ্চল

থানচিতে ২০ প্রতিবন্ধী পেল নগদ আর্থিক সহায়তা

থানচি, বান্দরবান:
বান্দরবানের থানচি উপজেলায় ২০ জন প্রতিবন্ধী ও দুস্থ ব্যক্তিকে নগদ আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা ও দুটি করে সাবান দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৩১ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়।

 

সোমবার (২৪ আগস্ট) হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব সহায়তা বিতরণ করা হয়। হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের যৌথ সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রতিনিধি উপপরিদর্শক তৌফিক হোসেন, থানচি প্রেস ক্লাবের সভাপতি মংবোওয়াংচিং মারমা অনুপম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সুপারভাইজার মো. আমীর হোসেন, হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের উপজেলা ব্যবস্থাপক উসাইনখিং মারমা, রোয়াহ্ ক্যং প্রকল্পের সমন্বয়ক বিদ্যা পূর্ণ চাকমা ও তত্ত্বাবধায়ক হালিরাম ত্রিপুরা।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল বলেন, “দুস্থ ও অসহায় মানুষের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসতে হবে। যথাযথ আর্থিক সহায়তা পেলে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন।

 

তারা আরও বলেন, প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত কেউ যেন সহায়তার আওতা থেকে বাদ না পড়ে, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি পাওয়া সহায়তাকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য উপকারভোগীদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

 

খাদ্যসহায়তার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩১ পরিবারকে জনপ্রতি ২৫ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল ও ১ লিটার তেল দেওয়া হয়। পরে নির্বাচিত প্রতিবন্ধী, দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের হাতে নগদ অর্থ ও দুই হাজার ৫শত টাকা দুইটি করে সাবান সহায়তা তুলে দেন অতিথিরা।

 

অনুষ্ঠানে হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

উল্লেখ্য, হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন ১৯৯৯ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

Related Articles

Back to top button