সারাদেশ

মনপুরায় ইউপি ভবন আবাসন বাজারে স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন

ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন আবাসন বাজারে স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আবাসন বাজারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ১, ২, ৪, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় দেড় হাজার পরিবারের মানুষ অংশ নেন।

 

 

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ শুধু একটি প্রশাসনিক ভবন নয়, এটি সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা পাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে প্রতিনিয়ত ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়। তাই ভবন নির্মাণের স্থান নির্ধারণে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার স্বার্থের চেয়ে ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের যাতায়াতের সুবিধা ও ভোগান্তির বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

তাঁদের দাবি, আবাসন বাজারে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোর বিপুলসংখ্যক মানুষ সহজে সরকারি সেবা নিতে পারবেন। এতে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি যাতায়াতের দুর্ভোগও কমবে।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবদুল হামিদ বলেন, মনপুরার মতো বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে সরকারি সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, নারী, অসুস্থ মানুষ ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের দূরে গিয়ে সেবা নেওয়া কষ্টসাধ্য। তাই পরিষদ ভবনের স্থান নির্ধারণে সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. এরশাদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ জনগণের সেবা পাওয়ার জায়গা। তাই ভবন নির্মাণের স্থান নির্ধারণে জনসাধারণের মতামত, যাতায়াতের সুবিধা এবং সব ওয়ার্ডের মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করতে হবে। আবাসন বাজারে ভবন নির্মাণ করা হলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে বলে তাঁরা আশা করেন।

 

 

আরেক বাসিন্দা মো. আলাউদ্দিন খলিফা বলেন, আবাসন বাজারে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হলে সরকারি অনুদানের জন্য বরাদ্দ করা মালামাল পরিবহনের খরচ অনেকাংশে কমে আসবে।

 

 

মানববন্ধন থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আবাসন বাজারে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

 

 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় ৮০ শতক জমি প্রয়োজন। কিন্তু পরিষদের নিজস্ব জমি না থাকায় স্থান নির্ধারণ নিয়ে কিছুটা দ্বিধা ছিল। বর্তমানে মনির বাজারের স্থানীয় বাসিন্দারা পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য বিনা মূল্যে জমি দিতে সম্মত হয়েছেন। এ ছাড়া সেখানে সরকারি সেন্টার থাকায় মনির বাজারে ভবন নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য তাঁদের পছন্দের তালিকায় দুটি স্থান রয়েছে। যে স্থানে তুলনামূলক বেশি জমি পাওয়া যাবে এবং ভবন নির্মাণের জন্য উপযুক্ত হবে, সেখানেই ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, তাঁদের দাবির যথাযথ মূল্যায়ন করে এমন স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হবে, যেখানে ইউনিয়নের সব এলাকার মানুষ সহজে নাগরিক সেবা নিতে পারবেন এবং অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবেন।

Related Articles

Back to top button