পার্বত্য চট্টগ্রামে জিবিভি প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ
কার্যকর নীতি ও ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক সেবা জোরদারের আহ্বান

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
পার্বত্য চট্টগ্রামে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা (জেন্ডার বেইজড ভায়োলেন্স-জিবিভি) প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর নীতিগত সংস্কার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত “পার্বত্য চট্টগ্রামে লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে এডভোকেসি ও মিডিয়া ক্যাম্পেইন” শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারিয়া সুলতানা বলেন, “লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতার মূল কারণ শুধু নারী-পুরুষ বৈষম্য নয়, বরং ক্ষমতার অসম বণ্টন। আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; কার্যকর বাস্তবায়নের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে।”
তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার (টিইউএস) নির্বাহী পরিচালক রিপন চাকমার সভাপতিত্বে এবং এম্পাওয়ারমেন্ট প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক শাশ্বতী দেওয়ানের সঞ্চালনায় আয়োজিত কর্মশালায় একটি পলিসি ব্রিফ উপস্থাপন করা হয়।
পলিসি ব্রিফে উল্লেখ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক দুর্গমতা, সামাজিক বৈষম্য, সেবার সীমাবদ্ধতা এবং নীতিগত ঘাটতির কারণে নারী, কন্যাশিশু, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী ও প্রতিবন্ধী নারীরা লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার অধিক ঝুঁকিতে রয়েছেন।
আলোচনায় বক্তারা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ভুক্তভোগী কেন্দ্রিক সেবা সম্প্রসারণ, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করণ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা বিবেচনায় কার্যকর নীতি ও পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও), সিএসও-সিবিও নেটওয়ার্ক এবং স্থানীয় নেতৃত্বের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।
কর্মশালায় জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুষ্মিতা খীসা, শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সৃজনী ত্রিপুরাসহ সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, নারী নেত্রী, যুব প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।




