দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী বিশেষ চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ কার্যক্রম। মানবিক এই আয়োজন ঘিরে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ও স্বস্তি দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল থেকে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং মহালছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে উপজেলার শিশু মঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। লায়ন্স ক্লাবের অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ও রোটারি ক্লাবের সহযোগিতায় পরিচালিত এ ক্যাম্পে শত শত মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।
ক্যাম্পে আগত রোগীদের চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ, বিনামূল্যে ঔষধ ও চশমা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি সাধারণ রোগীদের জন্যও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়। দিনভর চিকিৎসকদের ব্যস্ত সময় কাটলেও রোগীদের মুখে ছিল স্বস্তি আর কৃতজ্ঞতার হাসি।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, চক্ষু চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন মোট ৫৬৮ জন। এর মধ্যে ২৯৬ জন পাহাড়ের মানুষ এবং ২৭২ জন বাঙালি রোগী ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন সাধারণ রোগের চিকিৎসাসেবা নেন আরও ৪৫৭ জন অসচ্ছল ও দরিদ্র মানুষ।
সেবাগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন ৫০৪ জন নারী, ৪২৬ জন পুরুষ এবং ৯৫ জন শিশু। এ সময় ১০০ জন রোগীর মাঝে বিনামূল্যে চশমা বিতরণ করা হয়। এছাড়া আরও ১২৭ জন রোগীকে পরবর্তীতে ওষুধ ও চশমা প্রদানের জন্য নিবন্ধন করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক বাছাই শেষে ১৭৪ জন রোগীকে ছানি অপসারণসহ বিভিন্ন ধরনের চক্ষু অস্ত্রোপচারের জন্য চট্টগ্রামের লায়ন্স হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের নিয়মিত ফলোআপ নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের যাতায়াত সমস্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মহালছড়ি জোনের পক্ষ থেকে মহালছড়ি ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা মোট ৪৩৮ জন রোগীকে একাধিক যানবাহনের মাধ্যমে যাতায়াত সহায়তা প্রদান করা হয়।
চক্ষু চিকিৎসার পাশাপাশি মহালছড়ি জোনের মেডিকেল অফিসার এবং মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ ধরনের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা খুবই বিরল। ফলে সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মাঝে আশার আলো হয়ে উঠেছে। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা অনেকেই আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।




