Uncategorized

থানচিতে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে বিজিবি-র যৌথ মেডিকেল ক্যাম্প ও টিকাদান কর্মসূচি

থানচি ,বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকায় হাম-রুবেলা ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে যৌথভাবে বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প ও টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্বাস্থ্য বিভাগ।

 

 

শনিবার (২০ জুন) তিন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বংকু ত্রিপুরা পাড়া, প্রদীপ ত্রিপুরা পাড়া ও শালুকিয়া ত্রিপুরা পাড়ায় দিনব্যাপী এ কার্যক্রম পরিচালনা করে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) এবং থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বংকুপাড়া বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ প্রদীপ পাড়ায় কয়েকজন শিশু হাম-রুবেলার উপসর্গে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। একজন কিশোরীর মৃত্যুর তথ্য এবং আরও কয়েকজন শিশুর আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

 

 

বলিপাড়া জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ৩৮ বিজিবির মেডিকেল অফিসার মেজর তাবেইন ইয়াসিয়াজ ভূইয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত ক্যাম্পে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আয়মন হোসেন, হেলথ ইন্সপেক্টর মনিকা লেনচেও ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) বন্ধনা তংচংগাসহ একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল অংশ নেয়।

 

 

ক্যাম্পে শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত নারী, পুরুষ ও শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হয় এবং স্থানীয়দের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়।

 

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি বছরে প্রায় ৬ হাজারের বেশি শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ সংকট এবং কিছু শিশুর বাইরে অবস্থানের কারণে সবাইকে টিকাদানের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

 

 

তিনি বলেন, হাম-রুবেলা ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু হয়। দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নতুন কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

 

 

মেজর তাবেইন ইয়াসিয়াজ ভূইয়া বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্য এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং জীবনমান উন্নয়নে বিজিবি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

 

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণ বিজিবি এবং স্বাস্থ্য বিভাগের এই সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ একটি প্রশংসনীয় মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Related Articles

Back to top button