খাগড়াছড়িপার্বত্য অঞ্চল

খাগড়াছড়িতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের চতুর্থ দিন

৫ ইভেন্টে জমজমাট শিরোপা লড়াই

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর চতুর্থ দিনের বিভিন্ন ইভেন্টের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা।

 

মঙ্গলবার (৫ মে) খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে দিনব্যাপী আয়োজনে খেলোয়াড়, কোচ ও ক্রীড়াপ্রেমীদের সরব উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

 

 

এদিন অ্যাথলেটিক্স, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন ও দাবা সহ মোট পাঁচটি ইভেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। বালক ও বালিকা উভয় বিভাগে অংশগ্রহণে প্রতিটি খেলায় দেখা যায় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও চূড়ান্ত উত্তেজনা।

 

ফুটবল বালিকা বিভাগে গুইমারা উপজেলাকে ৫-০ গোলে পরাজিত করে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা দল চ্যাম্পিয়ন হয়। বালক বিভাগে খাগড়াছড়ি সদরকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় দীঘিনালা উপজেলা দল। ফুটবলে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সেরা গোলরক্ষক হন ওয়েনুখিং মারমা, সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন হ্যাপি ত্রিপুরা এবং সর্বোচ্চ গোলদাতা (৫ গোল) হন লক্ষ্মীছড়ির ক্রাখুইপ্রু মারমা।

 

ব্যাডমিন্টন বালক এককে রুদ্র ত্রিপুরা চ্যাম্পিয়ন ও প্রানন চাকমা রানারআপ হন। দ্বৈত বিভাগে রুদ্র-প্রানন জুটি শিরোপা জিতে নেয়। বালিকা এককে অনুষ্কা চাকমা চ্যাম্পিয়ন ও অংহ্লাচিং মারমা রানারআপ হন। দ্বৈতে অনুষ্কা চাকমা ও কুশলা চাকমা জুটি চ্যাম্পিয়ন হয়।

 

দাবা বালক বিভাগে মাটিরাঙ্গার মুহা. শিনাস ইবতিসাম সিনান চ্যাম্পিয়ন এবং মো. অবির হোসাইন রানারআপ হন। বালিকা বিভাগে রামগড়ের অধিম্বরী দেববর্মণ চ্যাম্পিয়ন এবং মাটিরাঙ্গার আদিবা আরশী খান দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।

 

অ্যাথলেটিক্সে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে বালক বিভাগে পানছড়ির নাহিদুল ইসলাম এবং বালিকা বিভাগে সৃষ্টি চাকমা চ্যাম্পিয়ন হন। ২০০ মিটারে বালক বিভাগে হ্লাপ্রু চাই ত্রিপুরা ও বালিকা বিভাগে বৃষ্টি ত্রিপুরা প্রথম স্থান অর্জন করেন। লং জাম্পে বালক বিভাগে মুজাহিদ জাহাঙ্গীর এবং বালিকা বিভাগে খ্যাতি চাকমা শিরোপা জিতে নেন।

 

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে মেডেল, ট্রফি ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ। এসময় ক্রীড়া সংগঠক, কোচ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

 

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন পার্বত্য অঞ্চলের তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

Related Articles

Back to top button