
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
সারাদেশের ন্যায় খাগড়াছড়িতেও পবিত্র সীরাতুন্নবী (সা.)-এর আদর্শকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জেলা পর্যায়ের সীরাত প্রতিযোগিতা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে সনদপত্র ও আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
মঙ্গলবার (০৫ মে) সকালে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়, যা পুরো পরিবেশকে এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহে রূপ দেয়।
প্রতিযোগিতা শেষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. আনোয়ার কবিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,“সীরাত প্রতিযোগিতা শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি হচ্ছে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শকে ধারণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তরুণ প্রজন্ম যদি তাঁর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়, তাহলে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”
সভাপতির বক্তব্যে মো. আনোয়ার কবির বলেন,“ইসলামিক ফাউন্ডেশন সবসময়ই শিশু-কিশোরদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছে। সীরাত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা শুধু জ্ঞান নয়, বরং চরিত্র গঠনের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছি।”
এদিন জেলার ৯টি উপজেলা থেকে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার মোট ৭৭ জন শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। কনিষ্ঠ, মাধ্যমিক ও উচ্চ,এই তিনটি ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মোট ৯ জন বিজয়ীর হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাসের দৃশ্যমান প্রতিফলন। অনেকেই মহানবী (সা.)-এর জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে হৃদয়গ্রাহী উপস্থাপনার মাধ্যমে বিচারকদের মুগ্ধকরেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হামিদসহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিচারক মণ্ডলী।
আয়োজকরা জানান, জেলা পর্যায়ে বিজয়ী প্রতিযোগীরা আগামী ১৯ মে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ের সীরাত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। এতে করে তারা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মেধা ও ধর্মীয় জ্ঞান তুলে ধরার সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুরো আয়োজনটি শুধু একটি প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও আদর্শিক শিক্ষার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে ছিল ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নিজেকে তুলে ধরার প্রত্যয়—যা খাগড়াছড়ির শিক্ষাঙ্গনে এক ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।




