থানচিতে নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ;তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানের থানচি উপজেলায় পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে চলমান বিভিন্ন আধাপাকা ও পাকা ভবন নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এতে নির্মাণাধীন স্থাপনাগুলোর টেকসইতা, দীর্ঘস্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জেলা পরিষদের অর্থায়নে থানচি উপজেলার তিন্দু, সদর ও বলীপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ভবন নির্মাণকাজ চলছে। এর মধ্যে মানলুং হেডম্যান পাড়া কালেকশন পয়েন্ট, নাইন্দারী পাড়া খুমি ছাত্রাবাস, মৈত্রী শিশু সদনের ছাত্রাবাস, মংনাই পাড়া লাইব্রেরি ও বলীপাড়া পাবলিক টয়লেট উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব নির্মাণকাজে ঝিরি থেকে সংগ্রহ করা অপরিপক্ক ছোট পাথর, ময়লা-আবর্জনাযুক্ত বালু এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এসব উপকরণ দিয়ে পিলার ও ভিত্তি কাঠামোর কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
নির্মাণকাজে নিয়োজিত এক শ্রমিক জানান, ঠিকাদারের নির্দেশনায় স্থানীয় ঝিরি থেকে পাথর ও বালু সংগ্রহ করে কংক্রিট তৈরি করা হয়েছে এবং তা দিয়েই পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। “আমাদের দায়িত্ব ছিল সরবরাহকৃত উপকরণ দিয়েই কাজ করা,” বলেন তিনি।
মানলুং পাড়ার কারবারী রেংতলাইন খুমি বলেন, “গ্রামের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে প্রকল্পটি নেওয়া হলেও আমাদের জানানো হয়, স্থানীয় পাথর-বালু ব্যবহার না করলে বরাদ্দ বাতিল হয়ে যাবে। পরে আমরা সম্মতি দিতে বাধ্য হই।”
একই এলাকার বাসিন্দা থুইহ্লাচিং খুমি বলেন, “নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এতে আমরা উদ্বিগ্ন।”
মৌজা হেডম্যান হৈসাই খুমি জানান, প্রভাবশালী মহলের কারণে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথা বলা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে সাইট তদারকি প্রকৌশলী মংওয়েচিং মারমা বলেন, কার্যাদেশ ও চুক্তিপত্র অনুযায়ী স্থানীয় পাথর-বালু ব্যবহারের অনুমতি নেই। “নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার থোয়াইপ্রুঅং মারমা বলেন, তার নামে কোনো প্রকল্প নেই এবং অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।
জেলা পরিষদের সদস্য খামলাই ম্রো বলেন, “নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত সরেজমিন তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করে পুনরায় কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, যথাযথ তদারকি না থাকলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত হবে না।




