খাগড়াছড়িতে প্রসব জনিত ফিস্টুলা নির্মূলে জোরালো উদ্যোগ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
প্রসব জনিত ফিস্টুলা নির্মূল দিবস উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় বক্তারা ফিস্টুলা প্রতিরোধে সময়মতো চিকিৎসা, নিরাপদ প্রসব এবং সামাজিক সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
মঙ্গলবার (০৫ মে) দুপুরে খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের যৌথ আয়োজনে এবং সিআইপিআরবি ও ইউএনএফপিএ, বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, প্রসবজনিত ফিস্টুলা একটি প্রতিরোধযোগ্য স্বাস্থ্যসমস্যা হলেও অজ্ঞতা, দেরিতে চিকিৎসা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক নারী এখনো এ সমস্যায় ভুগছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, গ্রামীণ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা।
সভায় জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রতন খীসা, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুষ্মিতা খীসা, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এসআরএইচআর কো-অর্ডিনেটর ডা. শ্রাবস্তী চাকমা, গ্রীণ হিলের জেলা সমন্বয়ক রুপান্ত চাকমা, ইউএনএফপিএ ফিস্টুলা প্রকল্পের জেলা সমন্বয়ক মো. মোস্তাফিজুর রহমান সহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, প্রসবকালীন জটিলতা মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত ধাত্রী, স্বাস্থ্যকর্মী এবং জরুরি সেবার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা গেলে ফিস্টুলার মতো জটিলতা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। পাশাপাশি নারীদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং পরিবার ও সমাজের সহানুভূতিশীল মনোভাব গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভাটি শুধু আনুষ্ঠানিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মর্যাদা রক্ষায় একটি সম্মিলিত অঙ্গীকারের প্রতিফলন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে ফিস্টুলা নির্মূলে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং নারীর স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।




