খাগড়াছড়িতে ৭৩ পরিবারের মাঝে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার, খাগড়াছড়ি:
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি জনপদে আত্মকর্মসংস্থান ও টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করতে ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন সহায়তার আওতায় খাগড়াছড়িতে অসহায়, গরীব ও দুঃস্থ পরিবারের মাঝে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি বিতরণ করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগী পরিবারগুলোর হাতে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি তুলে দেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য জনাব মোঃ মাহাবুব আলম।
এদিন জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকার অস্বচ্ছল ও দুঃস্থ ৮টি পরিবারের মাঝে গরু, ২৫টি পরিবারের মাঝে ছাগল এবং ৪০টি পরিবারের মাঝে হাঁস-মুরগি বিতরণ করা হয়। সবমিলিয়ে ৭৩টি পরিবার এই সহায়তার আওতায় আসে।
বিতরণকালে জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ মাহাবুব আলম বলেন,“পার্বত্য অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হলো আত্মকর্মসংস্থান। গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পালন এমন একটি উদ্যোগ, যা খুব অল্প পুঁজি দিয়েই একটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারে। আজ আমরা যে ৭৩টি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি, তাদের জীবনমান বদলাতে এ সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও বলেন,“আমি মনে করি জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু দায়িত্ব নয়, এটা নৈতিক কর্তব্য। দীর্ঘদিন ধরে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ, অসহায়দের ঘরবাড়ি নির্মাণ, ঘরের টিন প্রদান, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণসহ মানুষের যে কোনো সমস্যার কথা শুনলে আমি ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করি। মানুষের কাতারে দাঁড়িয়ে কাজ করলে যে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়, তা অন্য কোথাও নেই।”
উপকারভোগী মিলনপুর থেকে আসা এক নারী বলেন,“আমার স্বামীর আয় খুবই সীমিত। এই গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পেয়ে আমরা এখন নিজের বাড়িতেই আয় করার সুযোগ পেলাম। জেলা পরিষদের এই সহায়তা আমাদের জীবনে অনেক বড় পরিবর্তন আনবে।”
উত্তর সবুজবাগ থেকে আসা আরেক উপকারভোগী মো. রশিদুল বলেন,“দীর্ঘদিন ধরে অভাবের সঙ্গে লড়াই করছি। আজ যে সহায়তা পেলাম, তা দিয়ে ছোট পরিসরে খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছি। এতে আমার পরিবারের জীবনমান বদলাবে বলে বিশ্বাস করি।”
উপকারভোগীরা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের এই উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকলে পার্বত্য অঞ্চলের অসহায় ও দরিদ্র পরিবারগুলো আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে এবং সমাজের মূল স্রোতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।




