রাজনীতি

এক ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েই বলেছিলেন ‘উৎপাদন বাড়াও’

স্বনির্ভরতার অর্থনীতি (পর্ব–১)

একটা ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে যিনি বলেছিলেন—
“উৎপাদন বাড়াও”
তিনি শুধু রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন না, ছিলেন ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্থপতি।

আজ সুপারশপে দাঁড়িয়ে আমরা হয়তো ভুলে গেছি,
একদিন এই দেশ দুমুঠো ভাতের নিশ্চয়তার জন্য লড়েছিল।

শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বনির্ভরতার দর্শন—
ইতিহাস নয়, আজকের বাস্তবতা।

স্বনির্ভরতার অর্থনীতি (পর্ব–১):

সত্তরের দশকের সেই ধুলোবালি মাখা দিনগুলোর কথা একবার কল্পনা করুন। একাত্তরের যুদ্ধের ক্ষত তখনো দগদগে, মাঠের পর মাঠ পড়ে আছে চৈত্রদিনের ফাটা মাটির মতো চৌচির হয়ে, আর মানুষের চোখেমুখে কেবলই দুমুঠো ভাতের অনিশ্চয়তা। চারদিকে হাহাকার—আজ খেলে কাল কী হবে, কেউ জানে না।

 

ঠিক সেই সময়টায় ধীরপায়ে ইতিহাসের মঞ্চে এলেন একজন মানুষ—সাধারণ সাফারি পরা, চোখে অস্থির স্বপ্ন। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি যখন বললেন, “উৎপাদন বাড়াও”, সেটা কোনো স্লোগান ছিল না; ছিল দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া একটি জাতির বেঁচে থাকার শেষ মন্ত্র।

 

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ছিল মূলত দাতা রাষ্ট্রগুলোর ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক মহলে আমাদের তাচ্ছিল্য করে বলা হতো “বাস্কেট কেস”। জিয়াউর রহমান খুব পরিষ্কারভাবে বুঝেছিলেন—পরনির্ভরশীলতা এক ধরনের দাসত্ব। যে জাতি নিজের খাবার নিজে উৎপাদন করতে পারে না, তার স্বাধীনতা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে।

 

তার ১৯ দফা কর্মসূচির প্রাণভোমরা ছিল কৃষি। তিনি কাগজে পরিকল্পনা রেখে থামেননি; নেমে গিয়েছিলেন মাঠের কাদামাটিতে। খাল খনন কর্মসূচি তখন ছিল এক নীরব বিপ্লব। হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন করেছে, মৃতপ্রায় নদীতে ফিরেছে প্রাণ। এটি শুধু সেচের লড়াই ছিল না—এটি ছিল আলস্য ঝেড়ে ফেলে নিজের ভাগ্য নিজে গড়ার মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ।

 

জিয়া বিশ্বাস করতেন, মাটির নিচেই বাংলাদেশের আসল ব্যাংক ব্যালেন্স লুকানো আছে। তার ‘সবুজ বিপ্লব’ দর্শন আমাদের শিখিয়েছিল—উন্নয়ন আগে পেটে, তারপর কাগজে।

(পর্ব–২ আসছে… গ্রাম, বিকেন্দ্রীকরণ ও উদ্যোক্তা দর্শন )

লেখক : মোঃ সহিদুল ইসলাম সুমন, অর্থনীতি বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও সদস্য, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ।
Email : msislam.sumon@gmail.com

Related Articles

Back to top button