
দাউদকান্দি , কুমিল্লা :
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিরবাগ গোয়ালী এলাকায় খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুতে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্মাণাধীন সেতুটির ছাদ ঢালাইয়ের পর দুইপাশে রেলিং ধরে ঝাক্কি দিলেই খুলে পড়ে যাচ্ছে, এরকম একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে এলাকাবাসী সেতুটি বেশি দিন টিকবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেতু ও কালভার্ট প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ৯ (নয়) মিটার দৈর্ঘ্যের ওই সেতুটির বাজেট তেত্রিশ লাখ টাকার কিছু বেশি। কাজটিতে ঠিকাদার বিভিন্ন অনিয়মের আশ্রয় নিলেও কর্তৃপক্ষ অনিয়ম বন্ধে কোনো ধরনের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও এলাকাবাসীদের দেওয়া তথ্য মতে, দাউদকান্দি উপজেলার বিটেস্বর ইউনিয়নের বীরবাগ গোয়ালী গ্রামে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কালভার্ট নির্মাণের কাজ পায় কুমিল্লার মেসার্স সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং । কিন্তু কাজের শুরু থেকেই নির্মাণে অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে আনুষঙ্গিক কাজ করছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। কিন্তু কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে অভিযুক্ত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ২৮ জুলাই ২০২৫ , সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা এ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেন।
স্থানীয় বারেক তালুকদার, আলাউদ্দিন তালুকদার ও আব্দুল হামিদ বলেন, পাথরের ঢালাই দেয়ার কথা, কিন্তু সেখানে ইটের কংকরও মিক্স করে দিয়েছে, কিছু বলি নাই। এখন উপরে রেলিংয়ে চারটি টানা রট রিংসহ দেয়ার নিয়ম থাকলেও ঠিকাদার রিং ছাড়া দু’টি রট দিয়ে ঢালাই করেছে। রট কম দেয়ার বিষয়টি ধরা পড়েছে সিমেন্ট কম দেয়ায় ঢালাই খসে পড়ায়। পরে আমরা দেখি পুরো ঢালাই ঢলা দিলেই খসে পড়ছে। সিমেন্ট ছাড়াই ঢালাই করায় এভাবে খসে পড়ছে, না জানি নিচের ঢালাইয়ে কি করেছে ?
বিটেস্বর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, রট ও সিমেন্ট কম দিয়ে ঢালাই করার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। জানার সাথে সাথেই আমি সংশিষ্ট কতৃপক্ষকে জানিয়েছি।
দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. হানিফ মিয়া বলেন, নিচের কাজ ঠিকমতোই করা হয়েছে। কালভার্টের স্লাবের উপর হুইল গার্ড রেলিং) শুক্রবার সন্ধ্যায় অফিসকে না জানিয়ে ঠিকাদার ঢালাই করেছে। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে নিন্মমানের ঢালাই হয়েছে বলে জানতে পারি। এরপরই আমরা ঠিকাদারকে মৌখিভাবে বিষয়টি জানাই। রট সিমেন্ট কম দিয়ে ঢালাই করা অংশটি এখন ভাঙ্গা হচ্ছে। মেসার্স সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং এর মালিক ঠিকাদার সোহেল এ মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, কালভার্টেও নিচের অংশ ঢালাই করার সময় আমাদের লোকজন উপস্থিত থেকে করা হয়েছে। আর রেলিংয়ের ঢালাইটি শুক্রবার বন্ধের দিনে আমাদের অফিসকে না জানিয়ে করেছে ঠিকাদার। আবার রেলিংয়ে রট সিমেন্টও কম দিয়েছে, তাই ভেঙ্গে পুনরায় করার জন্য ঠিকাদারকে চিঠি দেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। রট সিমেন্ট কম দিয়ে ঢালই করা অংশটি ঠিকাদারকে দিয়ে ভাঙা হচ্ছে। পরবর্তীতে সিডিউল মতো বাকি কাজটি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিল ছাড়া হবে না।