খাগড়াছড়িতে স্বেচ্ছাসেবীদের জমজমাট মিলন মেলা
স্বপ্ন, সেবার স্পর্শ আর মিলনের উৎসব:

স্টাফ রিপোর্টার ,খাগড়াছড়ি :
যেখানে স্বপ্ন দেখা হয় সমাজ বদলের, যেখানে তরুণদের হাত ধরে এগিয়ে যায় মানবিকতার বহ্নি শিখা, সেই সব গল্প গুলো এবার একসঙ্গে দেখা গেল খাগড়াছড়িতে।
পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার ৯টি উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো একত্রিত হলো এক মহামিলনে, যেটি শুধু আয়োজন ছিল না,ছিল ভবিষ্যতের সম্ভাবনার প্ল্যাটফর্ম।
২১ জুন ২০২৫ ,শনিবার , বৃষ্টির নরম ছোঁয়ায় ভেজা সকালেও থেমে থাকেনি তরুণদের উদ্যম। দিনব্যাপি এ মিলন মেলাটি পরিণত হয় উৎসব, উচ্ছ্বাস আর উদ্দীপনার মহাসভায়।
একসঙ্গে সবাই, সেবায় সবার অংশীদারিত্ব:
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের সহায়তায় আয়োজিত এই মিলন মেলায় যোগ দেয় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সংগঠন গুলোর ব্যানার, রঙিন টি-শার্ট আর চোখে মুখে সমাজ বদলের স্পষ্ট সংকল্প যেন গোটা মিলন মেলাকে রঙিন এক ক্যানভাসে পরিণত করে।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এ.বি.এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার। স্বেচ্ছা সেবকদের স্বতঃস্ফূর্ততা দেখে তিনি বলেন,“এই স্বেচ্ছা সেবকরাই আমাদের আগামী দিনের আশার আলো। স্বেচ্ছা সেবার চেতনা থাকলে সমাজে কোনো অনিয়ম স্থায়ী হতে পারে না।”
আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। কেউ বললেন দুর্যোগে পাশে দাঁড়ানোর গল্প, কেউ নারীর সুরক্ষায় কাজ করার অভিজ্ঞতা, কেউ বা কিশোর-কিশোরীর আত্মবিশ্বাস গড়ার উদ্যোগ।
কেউ তুলে ধরেন প্রত্যন্ত অঞ্চলে রক্ত দানের চ্যালেঞ্জ, কেউ বলেন পরিবেশ-সচেতনতা নিয়ে কাজের কথা। আলোচনা হয় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নেটওয়ার্কিং এবং যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়েও।
বৃষ্টির ছোঁয়ায়ও থেমে যায়নি প্রাণের ঝলক:
প্রকৃতির হালকা বৈরিতা,বৃষ্টিস্নাত মাঠ, স্যাঁত সেঁতে হাওয়া,তবুও আয়োজনে এক ফোঁটা ভাটা পড়েনি। উল্টো তরুণদের মুখে ছিল প্রাণের হাসি আর কণ্ঠে ছিল একটাই বার্তা, “আমরা একসঙ্গে, এক লক্ষ্যে,সেবার পথে।”
তরুণ নেতৃত্বে নতুন সম্ভাবনার দরজা:
মিলন মেলার সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য দিক ছিল,এটি তরুণদের দ্বারা, তরুণদের জন্য, এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে আয়োজিত এক অনন্য উদ্যোগ।এ যেন শুধু একটি আয়োজন নয়, বরং ভবিষ্যতের সমন্বিত নাগরিক শক্তির ভিত্তি গড়ে তোলার দৃপ্ত পদক্ষেপ।
এই মিলনমেলা প্রমাণ করেছে যে,তরুণদের সম্মিলিত শক্তি কোনো ভৌগোলিক সীমা মানে না।এখন শুধু প্রয়োজন এই শক্তিকে ধরে রাখা, গড়ে পিঠে তোলা আগামী দিনের জন্য,যেখানে সেবা হবে জীবনের অঙ্গ, এবং তরুণেরা হবে সমাজের প্রকৃত পরিবর্তনকারী।
পরিশেষে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে জমজমাট অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।