
শ্রীনগর (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার কামারগাঁও আইডিয়াল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আজিম খান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বারবার বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে প্রতিকার চেয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৯ মার্চ ২০২৬) প্রধান শিক্ষক নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতা চাইলে কর্মচারী রিয়াদ জানান, খাতাটি সাবেক সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম খান লিয়াকতের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এ সময় বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী এমারত হোসেন অফিস কক্ষে প্রবেশ করে প্রধান শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও মারধরের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক জানান, এর আগেও ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম খান লিয়াকতসহ কয়েকজন ব্যক্তি অফিস কক্ষে প্রবেশ করে তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন এবং জোরপূর্বক একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেন। এ ঘটনায় তিনি ১৭ আগস্ট ২০২৪ তারিখে শ্রীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে ওই পদত্যাগপত্র গ্রহণ না হওয়ায় তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
এছাড়া, ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর অ্যাডহক কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর খান তার কাছ থেকে রেজুলেশন খাতা জোরপূর্বক নিয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ আখ্যা দিয়ে তিন মাসের ছুটিতে পাঠান বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে পরে মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল বোর্ড তাকে সুস্থ ঘোষণা করে সনদ প্রদান করে।
পরবর্তীতে জেলা শিক্ষা অফিসার, মুন্সিগঞ্জ ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তার পুনরায় যোগদানের বিষয়ে পত্র দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় তিনি ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পুনরায় যোগদান করেন। কিন্তু রমজানের ছুটি শেষে ২৯ মার্চ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে আবারও তাকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ আজিম খান তার দায়িত্ব পালনে সৃষ্ট বাধা অপসারণ এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম খান লিয়াকত বলেন, হাজিরা খাতা শিক্ষকদের উপস্থিতির জন্য ব্যবহৃত হয়। তিনি প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ে যান, তবে হাজিরা খাতা নিজের কাছে রাখার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিবুর রহমান জানান, বিষয়টি তার জানা আছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




