পার্বত্য অঞ্চলবান্দরবানসারাদেশ

থানচি–রুমা সীমান্তে সেনাবাহিনী ও পাহাড়ি জনগণের মিলন মেলা

নিজস্ব সংবাদদাতা,বান্দরবান:
বান্দরবানের থানচি ও রুমা উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় বসবাসরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী নির্ভয় মিলনমেলা। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের শুভ বড়দিন ও আসন্ন নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এ মিলনমেলায় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে সেনা–জনতার পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরা হয়।

 

 

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর/২৫) সকালে রুমা উপজেলার দুর্গম সুংসুং বমপাড়া মাঠে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে থানচি–রুমা সীমান্তের অন্তত ১০ থেকে ১২টি গ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠী অংশগ্রহণ করে। সেনাবাহিনী ও এলাকাবাসীর সমন্বয়ে আয়োজিত প্রীতি ফুটবল ম্যাচে সুংসুংপাড়া সেনা ক্যাম্প দলকে ৩–১ গোলে পরাজিত করে সুংসুংপাড়া এলাকাবাসীর দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

 

 

প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও পরবর্তী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৬ ই বেঙ্গল ‘দি ম্যাজেস্টিক টাইগার্স’-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ আতিকুল করিম, পিএসসি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সুংসুংপাড়া সাব-জোন কমান্ডার মেজর মুহাম্মদ আরাফাত রোকনীসহ সেনাবাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

 

একই দিনে দার্জিলিং পাড়ায় পৃথক একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সুংসুংপাড়া প্রধান কারবারি থংলালময় বম, রুমানা ও দার্জিলিং পাড়ার কারবারি কোয়ারখার বম জানান, কেএনএফের নিপীড়ন ও অত্যাচারের কারণে গত দুই বছর বড়দিন ও নববর্ষের উৎসব সেভাবে উদযাপন করা সম্ভব হয়নি। তবে এ বছর সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে এসব অনুষ্ঠান উদযাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা তাদের জীবনযাত্রা, সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন বলে জানান তারা।

]

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ আতিকুল করিম বলেন,“বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পাহাড়ি এলাকার সাধারণ জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সম্প্রীতি আগের চেয়ে অনেক বেশি সুদৃঢ় হয়েছে। এক সময় পাহাড়ের মানুষ সেনাবাহিনীকে ভয় পেত, আজ সেই ভয় পরিণত হয়েছে অভয়ে। এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও সামাজিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অব্যাহত থাকবে।”

 

খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে মেডেল বিতরণ করা হয়। এ সময় তিনি খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান এবং খেলাধুলার মাধ্যমে সেনাবাহিনী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

একই দিনে পুরাতন রুমানা পাড়া, নতুন রুমানা পাড়া ও দার্জিলিং পাড়ার বাসিন্দাদের সঙ্গেও পৃথক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

Related Articles

Back to top button