পার্বত্য অঞ্চলবান্দরবানসারাদেশ

ডিজিটাল সহিংসতা প্রতিরোধে থানচিতে ১৬ দিনের কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিনিধি,থানচি,বান্দরবান:
বান্দরবানের থানচিতে উদযাপিত হলো আন্তর্জাতিক ১৬ দিনের কর্মসূচি, যার মূল প্রতিপাদ্য ছিল, “End digital violence against all women and girls – Join the UNITE campaign to stop digital abuse.”

 

 

 

২৬ নভেম্বর ২০২৫, বুধবার সকালে বলিপাড়া নারী কল্যাণ সমিতি (BNKS)-এর উদ্যোগে এবং সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের সহযোগিতায় সোচ্চার প্রকল্পের অধীনে আয়োজিত এই কর্মসূচি ডিজিটাল সহিংসতার ভয়াবহতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা এবং নারীদের নিরাপদ ডিজিটাল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

দিনটি শুরু হয় থানচি বাসস্টেশন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি মাধ্যমে। বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে অংশ নেন স্থানীয় বিভিন্ন পাড়া ও গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী ও কিশোরীরা। পরে র ্যালিসভাগণ থানচি সদর ইউনিয়ন পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভায় অংশ নেন, যেখানে ডিজিটাল সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

 

আলোচনা সভায় অতিথিদের বক্তব্য

সভায় প্রধান অতিথি থানচি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অং প্রু স্রো বলেন, ডিজিটাল সহিংসতা সাম্প্রতিক সময়ে কীভাবে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে তা তুলে ধরে বলেন-

 

“অনলাইন হয়রানি, ছবি বা ভিডিও বিকৃতি, ভুয়া আইডি তৈরি, ব্ল্যাকমেইল- এসব অপরাধ দিনদিন বাড়ছে; কিন্তু অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক লজ্জা ও ভয়ের কারণে অভিযোগ করতে পারছেন না। ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের প্রথম দায়িত্ব।”

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “সরকার সাইবার ট্রাইব্যুনালসহ নানা আইনগত কাঠামো তৈরি করেছে। কিন্তু আইন তখনই কার্যকর হবে, যখন মানুষ অভিযোগ করার পথ জানবে এবং সাহস পাবে। BNKS ডিজিটাল সহিংসতা প্রতিরোধে যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে- তা অত্যন্ত সময়োপযোগী।”

 

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রেস ক্লাবের সভাপতি মংবোওয়াংচিং মারমা (অনুপম) বলেন,পাহাড়ি এলাকার নারী ও কিশোরীরা অনলাইনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। ছবি বিকৃতি, ব্ল‍্যাকমেইল বা প্রতারণার মতো অপরাধ বেড়েছে, কিন্তু অভিযোগের সংখ্যা কম-কারণ তারা ভয় পায়। এ অবস্থায় কমিউনিটিকে আরও সচেতন হতে হবে।”

 

ইউপি নারী সদস্যা হ্লাহ্লায়ি মারমা বলেন, “ডিজিটাল সহিংসতা শুধুই অনলাইন হয়রানি নয়- এটি নারীর মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মসম্মান, শিক্ষা ও ভবিষ্যতের উপর দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পরিবার ও কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি খুবই জরুরি।”

 

BNKS-এর প্রজেক্ট ফোকাল ভাননুনসিয়াম বম বলেন, “১৬ দিনের কর্মসূচির মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা, অভিযোগ রিপোর্টিং ব্যবস্থা, কমিউনিটি সচেতনতা তৈরি এবং কিশোরীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি-এসব ইস্যুতে আমরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। পাহাড়ি নারীদের নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি BNKS-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। অনলাইন নিরাপত্তা শেখা আজকের যুগে অত্যাবশ্যক। অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখা, অনলাইন অপরাধ রিপোর্টিং এবং ডিজিটাল আচরণবিধি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি-এগুলোই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য।”

 

 

আলোচনা সভার বক্তারা বলেন- ডিজিটাল সহিংসতা প্রতিরোধ শুধুমাত্র আইনগত প্রয়াস নয়; এটি একটি সামাজিক পরিবর্তনের আন্দোলন। সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও কমিউনিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নারীর জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি সম্ভব। ১৬ দিনের এ কর্মসূচি পাহাড়ি এলাকার নারী ও কন্যাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে, যা BNKS-এর দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।

Related Articles

Back to top button