চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবি জনসংহতি সমিতির

স্টাফ রিপোর্টার, খাগড়াছড়ি : পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আট দফা দাবি ঘোষণা করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা)। চুক্তির ২৮তম বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি অভিযোগ করেছে— দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা successive সরকারগুলোর শৈথিল্যের কারণে শান্তি চুক্তির মৌলিক ধারাগুলো এখনও বাস্তবায়িত হয়নি, ফলে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের তেঁতুলতলায় জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা। তিনি বলেন,“চুক্তির ২৮ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু মৌলিক বিষয়গুলোর বেশিরভাগই অপূর্ণ রয়ে গেছে। আন্তবর্তীকালীন সরকারও চুক্তি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি।”
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত আট দফা দাবি
সংগঠনটির পক্ষ থেকে চুক্তির আলোকে তুলে ধরা দাবিগুলোর মধ্যে ছিল,ভূমি কমিশনের কার্যকর বিধিমালা প্রণয়ন ও দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম নিশ্চিত করা, ১৯০০ সালের পার্বত্য শাসনবিধি বহাল রাখা, আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন জেলা পরিষদের কাছে প্রশাসন, পুলিশ, ভূমি ব্যবস্থাপনা, সামাজিক বিচার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন দপ্তর দ্রুত হস্তান্তর,এবং জেলা পরিষদের কর্মকাণ্ডে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ’ বন্ধ করা। মোট আটটি দফা দাবি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করেন সুধাকর ত্রিপুরা।
তিনি আরও বলেন,“চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নই পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও উন্নয়নের একমাত্র পথ। কিন্তু সরকারের অব্যাহত শৈথিল্যের কারণে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। দ্রুত উদ্যোগ না নিলে সংকট আরও গভীর হতে পারে।”
সংবাদ সম্মেলনে জনসংহতি সমিতির সহ-সভাপতি সুভাষ কান্তি চাকমা, সহ-সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা, রাঙামাটি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুপিটার চাকমা এবং কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তির ২৮ বছর পূর্ণ হচ্ছে ২ ডিসেম্বর:
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার ও পাহাড়ি রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি। কিন্তু দীর্ঘ ২৮ বছর পরও চুক্তির অধিকাংশ ধারা বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করছে জনসংহতি সমিতি। তাদের মতে,“অসম্পূর্ণ চুক্তি পাহাড়ের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতির পথে প্রধান বাধা।”




