পার্বত্য অঞ্চলসারাদেশ

খাগড়াছড়িতে সৌরবিদ্যুৎ চালিত পানি উত্তোলনে উপকৃত শতাধিক পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার,খাগড়াছড়ি :
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার ও সহনশীল উন্নয়ন (ERRD-CHT) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন।

 

 

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর সহযোগিতায় এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে পরিচালিত কমিউনিটি সহনশীলতা (CoRLIA) প্রকল্পের আওতায় দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের মিলন কার্বারি পাড়া, বেলতলি পাড়া ও ব্রিজ পাড়ায় সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পানি উত্তোলন ও সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ERRD-CHT–UNDP প্রকল্পের অন্যান্য কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি।

 

 

পরিদর্শনকালে জানা যায়, প্রকল্পটির মাধ্যমে মিলন কার্বারি পাড়ার ৮৪টি পরিবার, বেলতলি পাড়ার ২৯টি পরিবার এবং ব্রিজ পাড়ার ৬০টি পরিবার,এই ৩টি এলাকায় মোট ১৭৩পরিবার সৌরবিদ্যুৎচালিত নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পানির সুবিধার আওতায় এসেছে। বিদ্যুৎ সংযোগবিহীন ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সৌরশক্তিনির্ভর পানি উত্তোলন ব্যবস্থা স্থাপন করায় দীর্ঘদিনের পানির সংকট লাঘবের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত হচ্ছে।

 

 

পরিদর্শন শেষে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে শীতার্ত ও সুবিধাবঞ্চিত শতাধিক মানুষের মাঝে শীতের কম্বল বিতরণ করা হয়। এতে স্থানীয় জনগণের মাঝে স্বস্তি ও মানবিক সহানুভূতির বার্তা পৌঁছে যায়।

 

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন, ইউএনডিপির ERRD প্রকল্পের জেলা কর্মসূচি বাস্তবায়ন বিশ্লেষক প্রিয়তর চাকমা, UNDP-এর CoRLIA প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা **নবলেশ্বর দেওয়ান (ত্রিপুরা)-সহ জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

 

পরিদর্শনকালে বক্তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রকৃতিনির্ভর, জলবায়ু সহনশীল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক উন্নয়ন উদ্যোগ সময়ের দাবি। ERRD-CHT ও CoRLIA প্রকল্পের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎচালিত পানি উত্তোলন ব্যবস্থা পাহাড়ি জনপদের জীবনমান উন্নয়নে একটি টেকসই মডেল হিসেবে কাজ করছে।

 

স্থানীয় উপকারভোগীরা জানান, এ প্রকল্পের ফলে পানির জন্য দূরপথে যাতায়াত কমেছে, সময় ও শ্রম সাশ্রয় হচ্ছে এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা অনেক সহজ হয়েছে। তারা এ ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

Related Articles

Back to top button