খাগড়াছড়িতে সেনা অভিযানে মগ লিবারেশন পার্টির সদস্য নিহত

স্টাফ রিপোর্টার, খাগড়াছড়ি :
খাগড়াছড়ি জেলা শহরের শান্তিনগরে সেনাবাহিনীর অভিযানে পালানোর সময় ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে মগ লিবারেশন পার্টির এক সদস্য নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি এলাকায় সংগঠনটির আরেক সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করে সেনাবাহিনী।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সেনাবাহিনী গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় স্থানীয় সন্ত্রাসী ইসমাইল হোসেনকে ২টি দেশীয় তৈরি এলজি ও ৫ রাউন্ড কার্তুজসহ আটক করা হয়। সেনা সূত্রের দাবি, ইসমাইল মগ লিবারেশন পার্টির সিন্দুকছড়ি জোনের চাঁদা কালেক্টর।
আটকের পর ইসমাইলের তথ্যের ভিত্তিতে তাকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার সকালে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের শান্তিনগরে সংগঠনটির আরেক সদস্য কংচাইঞো মারমাকে ধরতে অভিযান চালায় সিন্দুকছড়ি জোনের সেনা সদস্যরা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শান্তিনগরের ব্র্যাক অফিস সংলগ্ন সুজিত দের মালিকানাধীন একটি তিনতলা ভবনে অবস্থান নেয় কংচাইঞো মারমা। সেনা সদস্যরা ঘেরাও করলে পালানোর চেষ্টায় তিনি ভবনের তৃতীয় তলা থেকে লাফ দেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ঘটনাস্থল থেকে ১টি ৯ এমএম পিস্তল, ১৮ রাউন্ড গুলি, ৫টি দেশীয় তৈরি এলজি এবং ২১ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। কংচাইঞো মারমা দীর্ঘদিন ধরে খাগড়াছড়ি এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করছিলেন। তার বিরুদ্ধে অপহরণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কংচাইঞো মারমার বাড়ি মহালছড়ি উপজেলার গড়িয়াছড়ি এলাকায় হলেও তিনি স্বপরিবারে শান্তি নগরে ভাড়া থাকতেন। ভবন মালিক সুজিত দে জানান, দেড় বছর আগে কংচাইঞো মারমা স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ওই ফ্ল্যাট ভাড়া নেন এবং ভাড়া নেওয়ার সময় বিএসআরএম কোম্পানির কর্মচারী পরিচয় দেন। স্ত্রী-সন্তান নিয়মিত এ বাসায় থাকলেও তিনি অনিয়মিতভাবে আসতেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল বলেন, “এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।