কাজ অসম্পূর্ণ, তবুও পুরো বিল—মুন্সিগঞ্জে ঠিকাদারি কাজে অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার,মুন্সীগঞ্জ:
মুন্সিগঞ্জ–শ্রীনগর সড়কের ১৩তম কিলোমিটার এলাকায় সড়ক সংস্কার এবং পদ্মা পরিদর্শন বাংলোর সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত কাজ সম্পূর্ণ না করেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
জানা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মুন্সিগঞ্জ–শ্রীনগর সড়কের ১৩তম কিলোমিটার সংস্কার কাজের জন্য রিপেয়ারিং বাবদ মোট ৬৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। পাশাপাশি পদ্মা পরিদর্শন বাংলোর কাঁটাতার, সিঁড়ির রেলিং ও পলিয়েস্টার কাপড় সরবরাহ, ফিটিং ও ফিক্সিং কাজের জন্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ কাজের টেন্ডার আইডি নম্বর ১১৭৭৬০১ এবং কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইমন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল।
অভিযোগ রয়েছে, বাংলোর কাঁটাতারের কাজ দৃশ্যমান হলেও অন্যান্য কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করা হয়নি। একইভাবে সড়কের ১৩তম কিলোমিটারের কুসুমপুর ব্রিজের দুই পাশের ঢালে ৫০ মিটার করে রিপেয়ারিং কাজের অংশ হিসেবে নতুন করে সিল কোট করার কথা থাকলেও সিডিউলে থাকা বেজ টাইপ–১ এবং ৪০ মিলি কার্পেটিংয়ের কাজ করা হয়নি। এ কাজের মূল্য প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ১০০ মিটার প্যালাসাইডিং এবং ৫ হাজার জিও ব্যাগ দেওয়ার কথা থাকলেও ঘটনাস্থলে মাত্র প্রায় ৭০০টি জিও ব্যাগ পাওয়া গেছে। অথচ এ খাতে প্রায় ১৯ লাখ টাকার কাজ দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এসব কাজ সম্পূর্ণ না হলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে তিনজন সাংবাদিক পদ্মা পরিদর্শন বাংলো এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে বিষয়টি পরিদর্শন করেন। এ সময় সেখানে দায়িত্বরত সহকারী প্রকৌশলী দেবাশীষ দাস সাংবাদিকদের প্রশ্নে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আপনারা এখানে এভাবে প্রশ্ন করতে পারেন না। আমার অফিসে গিয়ে কথা বলতে পারেন।” অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
অন্যদিকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ইমন বলেন, “লোকাল বল্লি দেওয়ার কথা ছিল, আমি তাই দিয়েছি। কোনো অনিয়ম হয়নি।”
এ বিষয়ে শ্রীনগর সড়ক উপ-বিভাগীয় শাখার কর্মকর্তা এম এম হানিফ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনার এই তথ্য দিয়ে কী কাজ দরকার?”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।




