
কিশোরগঞ্জ:
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের দেশত্যাগের ঘটনায় সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীকে পুনরায় পূর্বের কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রোববার (৩ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জারি করা চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন সদর দপ্তরের পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার শামীমা ইয়াছমিন।
আবদুল হামিদের দেশত্যাগ ও এসপি প্রত্যাহার:
২০২৫ সালের ৭ মে দিবাগত রাতে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে যান সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। কারণ, কিশোরগঞ্জ সদর থানায় তাঁর নামে একটি মামলা থাকলেও তাঁর বিদেশগমন ঠেকাতে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি।
এই ঘটনার জের ধরেই কিশোরগঞ্জের তৎকালীন এসপি হাছান চৌধুরীকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। একইসঙ্গে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন শাখার একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহার এবং আরও দুই কর্মকর্তা (এসআই ও এএসআই) কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
তদন্তে বেরিয়ে আসে ভিন্ন চিত্র :
পুলিশ সদর দপ্তর এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি এ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে। উভয় কমিটির প্রতিবেদনে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের নির্দোষ বলে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। তদন্ত চলাকালীন কিশোরগঞ্জে এসপির পদটি শূন্য ছিল।
উল্লেখ্য, ১৪ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ সদর থানায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার আসামিদের তালিকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের আরও অনেক শীর্ষনেতার নাম ছিল। পরে ৮ জুন চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন আবদুল হামিদ।
নতুন আদেশের প্রেক্ষিতে এসপি মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলেন, আমি কিশোরগঞ্জ স্টেশনেই আছি। সকলের সহযোগিতা ও দোয়া চাইআমি যেন সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারি।
মামলা ও বিদেশ যাত্রা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে তদন্তে অব্যাহতি পাওয়া এই সিদ্ধান্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখার এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত বলেই বিশ্লেষকদের অভিমত।